চট্টগ্রামের সেগুনবাগান এলাকায় গতকাল শনিবার দুপুরে দোকানের ভেতরে ককটেলের বিস্ফোরণে দুজন আহত হয়েছেন। আর ফেনীর রামপুর এলাকায় গত শুক্রবার গভীর রাতে ককটেল বিস্ফোরণে এক যুবকের কবজি উড়ে গেছে। 
পুলিশ জানায়, খুলশী থানার সেগুনবাগান এলাকার একটি টিনশেড ঘরে বিক্রির জন্য ইট রাখা হতো। গতকাল দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে একটি দোকানের ভেতরে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দোকানের মালিক মোহাম্মদ জামালের ছেলে মো. শাহ আলম ওরফে মনু (২০) ও মো. মনির হোসেন (৩৫) আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা স্যান্ডেল, জর্দার কৌটার অংশবিশেষ এবং স্প্লিন্টার উদ্ধার করেছে পুলিশ। আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শাহ আলম সেগুনবাগান এলাকার ৩ নম্বর লেনের জামাল কলোনি এবং মনির হোসেন কোতোয়ালি থানার দূতিয়ারদীঘির পাড় পশ্চিম রোডের বাসিন্দা।
চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন শাহ আলম ও মনির হোসেন সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁরা বলেন, দোকানে বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। কারা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা জানেন না বলে দাবি করেন তাঁরা।
খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশিদ প্রথম আলোকে জানান, নাশকতার উদ্দেশ্যে দোকানের ভেতরে বোমা রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বোমা হামলাকারীদের সঙ্গে শাহ আলমের যোগসাজশ রয়েছে।
ফেনীতে যুবক আহত: ফেনী পৌরসভার রামপুর এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে ছাত্রদলের এক কর্মীর ডান হাতের কবজি উড়ে গেছে। তাঁর বাড়ি শহরের পূর্ব উকিলপাড়ায়।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহীনুজ্জামানের দাবি, বিস্ফোরণে গুরুতর আহত রহমান ভূঞা ওরফে বাবু ছাত্রদলের কর্মী। তবে ফেনী জেলা ছাত্রদলের একাংশের সভাপতি নইমুল্লাহ চৌধুরীর দাবি, বাবু তাঁদের কর্মী নন।
র্যা ব-৭ ফেনী ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোজাম্মেল জানান, শুক্রবার রাত দুইটার দিকে পৌরসভার রামপুর এলাকায় র্যা বের টহল দল দেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাবু একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। এ সময় র্যা ব তাঁকে ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে বাবু রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় তাঁর হাতে থাকা আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে ডান হাতের কবজি উড়ে যায়।
ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা অসীম কুমার সাহা জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য বাবুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফেনী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব মোরশেদ জানান, এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন