আবদুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, সকাল আটটার দিকে নদী থেকে ফিরে মাছটি স্থানীয় আড়তে বিক্রি করতে নিয়ে যান। সেখানে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে তিনি মাছটি বিক্রি করেন। পৌর শহরের ভাই ভাই ফিশিং মৎস্য আড়তের মালিক মো. নিশান মাছটি ১৬ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে কিনে নেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী নিশান প্রথম আলোকে বলেন, ঘুম থেকে উঠে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তিনি উপজেলার দক্ষিণ চর চান্দিয়া এলাকায় নদীর তীরে মাছ কিনতে যান। সেখানে আড়তে এ মৌসুমের বড় বোয়াল মাছ দেখে অবাক হন। মাছটির ওজন দিয়ে মেপে দেখেন প্রায় ১৪ কেজি। পরে নিলামে ডাক তুললে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ হাজার ১৫০ টাকা কেজি দরে মোট ১৬ হাজার ১০০ টাকায় বোয়ালটি কিনে নেন। মাছটি বিক্রির জন্য পৌর শহরের মাছ বাজারে নিয়ে আসেন। নদীর তীরে ও বাজারে উৎসুক অনেকে বোয়ালটি দেখতে ভিড় করেন।

নিশান আরও বলেন, বোয়ালটি ঝুড়িতে রেখে বিক্রির জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দর হাঁকেন। কেজিপ্রতি ১৪০০ টাকা পেলেই বিক্রি করে দেবেন। এ জন্য বিভিন্ন পরিচিত ব্যবসায়ী, শখ করে বড় মাছ কেনেন—এমন কয়েকজন লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দুপুরের দিকে নাছির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে ১৮ হাজার ২০০ টাকায় মাছটি বিক্রি করেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, সম্প্রতি বড় ও ছোট ফেনী নদীতে ৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের কোরাল, বোয়াল, কাতলা, পাঙাশ, বাগাড়সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এসব মাছ বেশ সুস্বাদু। নদীর মাছ সুস্বাদু হওয়ায় দামও একটু বেশি পান জেলেরা।
মাছের ক্রেতা নাছির উদ্দিন বলেন, তিনি প্রবাসে থাকেন। তিনি বাজারে গরুর মাংস ও মাছ কিনতে গিয়েছিলেন। বাজারে গিয়ে বড় বোয়াল দেখে শখ করে ১৮ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে মাছটি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। অনেক বড় মাছ দেখে ছেলেমেয়েসহ পরিবারের সবাই অনেক খুশি হবে। মূলত সবাই মিলে আনন্দ করে খাওয়ার জন্য তিনি মাছটি কিনেছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা প্রথম আলোকে বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের আগে মাঝেমধ্যে কিছু পাঙাশ ও বাগাড় পাওয়া গেছে। কিন্তু বড় বোয়াল পাওয়া যায়নি। এ মৌসুমে নদীতে এটিই বড় বোয়াল মাছ ধরা পড়ল বলে মনে হচ্ছে। সামনে আরও বড় বড় মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করা যায়। তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় স্থানীয় জেলেরা উপকৃত হচ্ছেন। এ কারণে নদী ও সাগরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার হয়েছে। জেলেদের জালে বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর পরিমাণ মাছ ধরা পড়ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন