বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে তাঁকে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মধ্যম মটুয়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন বুধবার তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন জানায় পুলিশ। আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান শুনানি শেষে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শুক্রবার বিকেলে তাঁকে ফেনীর সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট ধ্রুব জ্যোতি পালের আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে রবিউল হক ১৫ অক্টোবর ফেনীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। আদালতে তিনি আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন। রবিউল হক আদালতকে জানান, কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননার প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা মূলত জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে অজ্ঞাতপরিচয়ের কিছু লোকজন ছিল।

মন্দির–দোকানপাটে হামলার ঘটনায় পুলিশ, র‍্যাব ও মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ফেনী মডেল থানায় মোট চারটি মামলা করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশের অভিযানে এসব মামলায় এ যাবৎ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফেনীতে ১৫ অক্টোবর রাতে ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়িয়ে শহরের কালীপাল গাজীগঞ্জ মহাপ্রভুর আশ্রম, ট্রাংক রোড ও বড় বাজারের দুটি কালীমন্দিরে হামলা, শহরের তাকিয়া রোডে হিন্দুদের বেশ কিছু দোকানপাটে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটে ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ, র‍্যাব ও মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ফেনী মডেল থানায় মোট চারটি মামলা করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশের অভিযানে এসব মামলায় এ যাবৎ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে মন্দিরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মোট ৪ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা আদালতে জবানবন্দিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মাহফুজুর রহমান বলেন, ১৫ অক্টোবর রাতে ফেনীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, আশ্রম, দোকানপাটে হামলা-ভাঙচুরসহ যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা ভিডিও চিত্র যাচাই করে আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ লোক যেন অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সেটাও দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাহফুজুর রহমান বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ক্রমে ঘটনার পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানাও জানা যাবে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন