বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার আগপর্যন্ত ইছামতী নদীতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক ছিল। ইছামতীকে কেন্দ্র করেই প্রসারিত হয়েছিল জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য। এরপর দিনে দিনে নদীর দুপাড় দখল হতে থাকে। উৎসমুখ আটকে বন্ধ হয়ে যায় পানিপ্রবাহ। নদীটি উদ্ধারের দাবি তোলেন জেলাবাসী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে জেলা প্রশাসন ইছামতীর উৎসমুখ সদর উপজেলার চর শিবরামপুর থেকে পৌর এলাকার শালগাড়িয়া শ্মশানঘাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় ২৮৪ জন দখলদার চিহ্নিত করে। ২০১১ সালে দখলদার উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়। কিন্তু খনন কাজ না হওয়ায় আবার দখল হতে থাকে নদীর দুপাড়।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, জেলাবাসীর দাবি ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৯ সালে নদীর দখলদার উচ্ছেদের জন্য ২ কোটি ৭৯ লাখ ও খননের জন্য ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। সে অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর নদীর উৎসমুখ থেকে লাইব্রেরি বাজার ব্রিজ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে খনন কাজ শুরু হয়। পুরো নদীর ৫ শতাংশ এলাকায় উচ্ছেদ ও ১৮ শতাংশ খনন কাজ হয়। উচ্ছেদ কাজে মোট বরাদ্দের ৩ শতাংশ ও খনন কাজে ৯ শতাংশ টাকা ব্যয় হয়। দ্বিতীয় দফায় ২০২০ সালের ৩০ মার্চ লাইব্রেরি বাজার ব্রিজ থেকে শালগাড়িয়া শ্মশানঘাট পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে বাধ সাধেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। মাত্র তিন দিনের মাথায় বন্ধ হয় উচ্ছেদ অভিযান।

পাউবো জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘সিএস নকশা অনুযায়ী, নদীর প্রশস্ততা ১০০ থেকে ১৮৫ ফুট পর্যন্ত রয়েছে। কিন্তু আরএস নকশায় এ প্রশস্ততা গড়ে ৫ থেকে ৪৫ ফুট পর্যন্ত কমে গেছে। দীর্ঘ দিন এ জমি কেনাবেচা হয়েছে। ফলে অনেকেই তাঁদের দখল করা জমির বৈধ মালিকানা দাবি করছেন। এসব নিয়েই আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে আমরা নদী খননের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন