বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঢাকায় যাওয়া-আসার পথে নলকা থেকে সেতুর পশ্চিম পাড় পর্যন্ত কয়েক দিন ধরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ট্রাকসহ অনেক যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতু এড়িয়ে কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে ফেরিতে ঢাকায় যাওয়া-আসা করছে। এতে নৌপথে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অথচ গত ২০ দিনের বেশির ভাগ সময়ে এই নৌপথে চলাচল করে দুটি ফেরি। দুই দিন ধরে এই নৌপথে কপোতী নামের একটি পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ ফেরি যুক্ত করা হলেও সেটি প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে। এতে ২০ দিন ধরে ঘাটে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ট্রাকের জটের সৃষ্টি হচ্ছে।

যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা অভিযোগ করেন, এই নৌপথে কমপক্ষে ছয়টি ফেরির প্রয়োজন। ২২ সেপ্টেম্বরের আগপর্যন্ত চালু ছিল চারটি ফেরি। এগুলো হলো রো রো ফেরি বেগম রোকেয়া ও বেগম সুফিয়া কামাল এবং ডাম্প ফেরি কপোতী ও কলমিলতা। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ২২ সেপ্টেম্বর বেগম রোকেয়া ও কপোতীর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে এই নৌপথে সুফিয়া কামাল ও কলমিলতা যানবাহনও যাত্রী পারাপার করছিল। কিন্তু ৪ অক্টোবর এই দুটির পরিবর্তে হজরত শাহজালাল ও শাহমখদুম নামে দুটি ফেরিকে এই নৌপথে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারে যুক্ত করা হয়।

বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও বিআইডব্লিউটিসির নাম প্রকাশে একাধিক কর্মী জানান, শাহজালাল ও শাহমখদুম একদিকে যেমন ধীরগতির, তেমনি পুরোনো ও ত্রুটিযুক্ত। তাই এই পরিবর্তনে সংকট আরও বেড়েছে। ৭ অক্টোবর সকালে কপোতী মেরামত করে কাজীরহাটে আনা হয়। সেদিনই সেটি বিকল হয়ে পড়ে।

সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, কাজীরহাট ট্রাক টার্মিনাল থেকে শুরু করে কাশিনাথপুর-কাজীরহাট সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে শতাধিক ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন ফেরির অপেক্ষায়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী ছোট গাড়িগুলোকে ফেরিতে ওঠার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন ট্রাকচালক জানান, কোনো কোনো পণ্যবাহী ট্রাককে আরিচায় যাওয়ার জন্য দেড়-দুই দিন ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া দুধ, সবজিসহ নানান পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ঘাট কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

ঘাটে আটকে থাকা ট্রাকচালক লিয়াকত আলী অভিযোগ করেন, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাঁরা পণ্য নিয়ে এই ফেরিঘাটে আটকা। যানজটের কারণে অনেক যানবাহনই এখন বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিবর্তে এই ফেরিঘাট হয়ে ঢাকা যাওয়া-আসা করায় যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। অথচ মাত্র তিনটি ‘লক্কড়ঝক্কড়’ মার্কা ফেরিতে যানবাহন পারাপার চলছে। এগুলোর কোনো কোনোটি প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী গাড়িগুলো ফেরিতে ওঠায় অগ্রাধিকার পাওয়ায় প্রতিটি ফেরিতে মাত্র তিন থেকে চারটি ট্রাক ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ঘাটে ট্রাকের জট বাড়তেই থাকবে।

কয়েকজন ট্রাকচালক জানান, ঘাটে আটকে থাকায় খাওয়া ও শৌচাগার নিয়ে তাঁদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির কাজীরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মাত্র তিনটি ফেরি দিয়ে এই নৌপথ পরিচালনা করা যাচ্ছে না। যেভাবে কাজীরহাট ফেরিঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে, তাতে প্রতিদিন ফেরিগুলোর ২২ থেকে ২৪টি ট্রিপের প্রয়োজন। অথচ তিনটি ফেরি দিয়ে ১২ থেকে ১৪টি ট্রিপ দেওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় ঘাটে কোনো ট্রাক এলে সেটিকে ফেরিতে ওঠার জন্য কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা জরুরি পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন