ফেরি স্বল্পতার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। ক্লান্ত যাত্রীরা জিনিসপত্র নিয়ে গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট এলাকায়
ফেরি স্বল্পতার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। ক্লান্ত যাত্রীরা জিনিসপত্র নিয়ে গাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট এলাকায়এম রাশেদুল হক

ফেরিস্বল্পতার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। ফলে, কয়েক দিনের মতো আজ রোববারও দৌলতদিয়া প্রান্তে পণ্যবাহী গাড়ির লম্বা লাইন অব্যাহত রয়েছে। ফেরিঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে কয়েক শ ঢাকাগামী গাড়ি রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৭টি ফেরি চলাচল করছিল। এটি প্রয়োজনের তুলনায় কম। এমন অবস্থায় গত ১০ দিন ধরে ইউটিলিটি ফেরি ‘মাধবীলতা’ যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে মেরামতের জন্য কারখানায় পড়ে আছে। চার দিন আগে রো রো (বড়) ফেরি কেরামত আলীর বড় ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে সেটিকে দুদিন আগে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। বাকি ১৫টি ফেরির মধ্যে দুদিন আগে একটি ফেরি নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডের পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট ১৪টির মধ্যে গতকাল শনিবার আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় গত শুক্রবার এই নৌপথ থেকে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে মাত্র ১৩টি ফেরি দিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় রুটে চলাচল করছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাভাবিক সময়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক রাখতে ন্যূনতম ছোট-বড় মিলে ১৭টি ফেরি সব সময় চালু রাখা দরকার। সেখানে বর্তমানে মাত্র ১৩টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার চালু রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গত শুক্রবার ভোরে ও দিন শেষে মধ্যরাতে দুই দফায় চার ঘণ্টার বেশি সময় হঠাৎ ঘন কুয়াশা পড়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এসব কারণে কয়েক দিন ধরে দৌলতদিয়া প্রান্তে যানবাহনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাস আগে পার করায় যাত্রীবাহী পরিবহন বেশি সময় আটকে থাকতে হচ্ছে না। তবে দূরপাল্লার বাসসহ অন্যান্য জরুরি সেবার গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে ফেরিতে ওঠার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে, সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি পারাপারে বেশি সময় লাগছে।

default-image

আজ সকালে দৌলতদিয়া প্রান্তে আটকে থাকা গাড়িচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ পণ্যবাহী গাড়ি ভোরের দিকে গোয়ালন্দ মোড় থেকে ঘাটে এসে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছে। যশোরের বেনাপোল থেকে আসা পণ্যবাহী গাজীপুরগামী কাভার্ড ভ্যানের চালক শহীদ শেখ বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘাট থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূর গোয়ালন্দ মোড় এসে তিনি আটকা পড়েন। গোয়ালন্দ মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। গতকাল বিকেল পর্যন্ত তাঁদের মোড়ে আটকে রাখার পর রাতে ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে দিলে ঘাটে গিয়ে লম্বা লাইনের পেছনে আটকা পড়েন। এখন পর্যন্ত তাঁরা নদী পাড়ি দিতে পারেননি।

কুষ্টিয়া থেকে পরিবারের জিনিসপত্র নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ‘দ্রুত নদী পাড়ি দিতে বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিবর্তে দৌলতদিয়া দিয়ে পাড়ি দিতে গতকাল রাতে রওনা করি। সারা রাত মহাসড়কে খোলা আকাশের নিচে গাড়িতে বসে থাকার এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে আটকে আছি। কখন ফেরিতে উঠতে পারব তার নিশ্চয়তা নেই।’

default-image

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আব্দুস সাত্তার বলেন, নদীতে পানি কমতে থাকায় তলদেশে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। কেরামত ও ইউটিলিটি ফেরি মাধবীলতায় সমস্যার কারণে মেরামতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে এই নৌপথে ৭টি বড়, ৫টি ছোট, ১টি কে–টাইপ, ১টি মাঝারিসহ ১৩টি ফেরি সচল রয়েছে। ফেরিস্বল্পতার কারণে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে কয়েক দিন ধরে যানবাহনের চাপ আছে। সব কটি ফেরি সচল থাকলে ঘাটে যানবাহনের চাপ থাকবে না বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন