জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সাত্তার মাতবর-মঙ্গল মাঝিরঘাট এলাকায় গত বছরের ২৫ আগস্ট নতুন করে একটি ফেরিঘাট নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিটিএ। নাব্যতাসংকটের কারণে দীর্ঘদিন ওই পথে ফেরি চালু করা যায়নি। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ওই নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়। বর্তমানে নৌপথটিতে দিনে তিনটি এ টাইপের ফেরি, দুটি ডাম্প ফেরি ও একটি ছোট ফেরি চলাচল করছে। আর রাতে শুধু তিনটি এ টাইপের ফেরি চলাচল করছে। তখন ডাম্প ফেরি দুটি ও ছোট ফেরি বন্ধ রাখা হয়। দিন-রাত মিলিয়ে নৌপথটিতে ৭০০ থেকে ৭৫০টি যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

সামনে ঈদ হওয়ার কারণে ঘাটটিতে পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বেড়েছে। পারাপারের জন্য প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ গাড়ি আসছে। এ কারণে যানবাহনের চালকদের ফেরির সিরিয়াল পেতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি থেকে দুই হাজার মুরগি নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন ইলিয়াছ মোল্যা। তিনি গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘাটে পৌঁছান। রাত দুইটার দিকে তিনি গাড়ি নিয়ে ফেরিতে উঠতে পেরেছেন। ততক্ষণে গরমে তাঁর দেড় শ মুরগি মারা গেছে। তিনি বলেন, ‘মুরগি নিয়ে রাত ১০টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। রাত দুইটায় ফেরি পেয়েছি। ঢাকায় পৌঁছাতে ভোর হয়ে যাবে। ফেরিঘাটে যানজটে আটকে থাকার কারণে আমার দেড় শ মুরগি মারা গেছে। মুরগি বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, এখন লোকসান গুনতে হবে।’

বরিশাল থেকে মাছ নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন গিয়াস উদ্দিন। রাত দেড়টার দিকে দেখা গেল, তিনি ফেরিতে ওঠার জন্য ট্রাফিক পুলিশের কাছে কাকুতি-মিনতি করছেন। গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘বরিশাল থেকে দুপুরে রওনা হয়েছি। মাছ নিয়ে ঢাকায় সন্ধ্যার বাজার ধরার কথা ছিল। কিন্তু রাত দুইটায়ও ফেরি পাচ্ছি না। দ্রুত পৌঁছতে না পারলে মাছ সব পচে যাবে।’

ব্যক্তিগত গাড়ির চালক শামীম খান বলেন, ‘বিকেল পাঁচটার সময় ঘাটে এসে ৮ ঘণ্টা পর ফেরিতে উঠেছি। এভাবে প্রতিদিনই ৮-১০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ফেরি পাওয়া যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরিঘাটে আটকে থাকা যে কত যন্ত্রণার, তা বলে বোঝাতে পারব না।’

শনিবার রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত জাজিরার সাত্তার মাতবর, মঙ্গল মাঝিরঘাটে অবস্থান করে দেখা যায়, পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ির জট সৃষ্টি হয়েছে। ঘাট থেকে পদ্মা সেতুর পুনর্বাসন সাইট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি আর গনির মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এলাকায় পণ্যবাহী গাড়ির জট লেগে আছে।

সাত্তার মাতবর, মঙ্গল মাঝিরঘাটে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মুজাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল পাঁচটার পর ঘাটটিতে গাড়ির জট লাগতে শুরু হয়। ঘাটটি ছোট, সড়ক সরু, ফেরি চলাচল করে কম। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে ও ঘাটের শৃঙ্খলা রাখতে হিমশিম খেতে হয়।

বিআইডব্লিউটিসির জাজিরার সাত্তার মাতবর, মঙ্গল মাঝিরঘাট ও শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার কারণে রাতে বাংলাবাজার ঘাট থেকে ফেরি চালানো বন্ধ থাকে। তাই বিকল্প জাজিরা ঘাটে গাড়ির চাপ বেড়েছে। আমরা এ ঘাটে আরও ফেরি বাড়ানোর কথা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন