বিজ্ঞাপন
default-image

সরেজমিনে বাংলাবাজার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে সিএনজি, ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারে করে বাংলাবাজার ঘাটে আসছে ঢাকাগামী যাত্রীরা। ঘাটের সংযোগ সড়ক ও টার্মিনালে অসংখ্য পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ছোট গাড়িতে ভরা। যাত্রীর ভিড় পন্টুনের চারপাশে। চারটি ঘাটের পন্টুন, সংযোগ সড়কে, ঘাটগুলোর পাশে মসজিদে অবস্থান করছে ঢাকাগামী হাজার হাজার যাত্রী। আর ফেরিগুলো ঘাটের পন্টুনের কাছে নোঙর করে রাখা।
প্রাইভেট কারে করে ফরিদপুর থেকে বাংলাবাজার ঘাটে এসেছেন উৎপল মল্লিক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় যাব, আমার বাচ্চার চোখে সমস্যা। ওরে জরুরি ডাক্তার দেখাতে হবে। ঘাটে ফেরি ছাড়ে না। অন্য কোনো নৌযানও নেই। এপার থেকে কোনো ফেরি না গেলেও মাঝেমধ্যেই ওপার থেকে তো যাত্রী বোঝাই করে ফেরি আসতাছে। এপার থেকে আমরাই দুর্ভোগে শিকার হচ্ছি।’
বরিশাল থেকে আসা ইতালিপ্রবাসী সোহাগ হোসেন বলেন, ‘কাল (সোমবার) আমার করোনা টেস্ট, ১২ তারিখে বিদেশ যাওয়ার ফ্লাইট। ঢাকায় যাওয়া খুবই জরুরি। ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছি। পদ্মা পার হওয়ার কোনো উপায় পাচ্ছি না। আজকের মধ্যে ঢাকায় না যেতে পারলে খুব বিপদে পড়ে যাব।’

default-image

জানতে চাইলে বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দিনে ফেরি চলাচল বন্ধ। তবে লাশবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য সকালে দুটি ছোট ফেরি ছাড়া হয়েছে। রাতের আগে আমাদের পার থেকে আর ফেরি ছাড়া হবে না। ওপারে ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ বেশি থাকায় দুটি ফেরি যাত্রী বোঝাই করে ঘাটে এসেছে। সোয়া ১১টার পরে আর কোনো ফেরি আমাদের ঘাটে আসেনি।’

বিআইডব্লিউটিসি ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে সাধারণত ১৬টি যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে পারাপার হয়। চলমান করোনাভাইরাসের লকডাউনে চলায় ১৪ এপ্রিল থেকে সীমিত করা হয় ফেরি চলাচল। লকডাউনের শুরুতে দিনের বেলায় দুই থেকে তিনটি ফেরি পরে ছয় থেকে সাতটি ফেরি ছাড়া হলেও গত শুক্রবার থেকে যাত্রী ও জরুরি প্রয়োজনে আসা যানবাহনের চাপ বেশি থাকা প্রায় সব কটি ফেরি চলাচল করে এ নৌপথে।

এখন ফেরিতে জরুরি প্রয়োজনে আসা যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাক, কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়,এসব ফেরিতে জরুরি প্রয়োজনে আসা যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাক, কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারের কথা থাকলেও হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী পারাপার হচ্ছে। এ কারণে বিআইডব্লিউটিসির পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার সকাল থেকে দিনের বেলায় ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ঢাকা থেকে আসা ঘরমুখী যাত্রীদের ভিড় তীব্র হওয়ায় শুধু যাত্রী নিয়ে ফেরি ছাড়তে বাধ্য হয় ঘাট কর্তৃপক্ষ।

যাত্রী আর জরুরি প্রয়োজনে আসা গাড়ি পারাপারের কারণে উভয় ঘাটেই আটকা পড়েছে দেড় হাজারের বেশি যানবাহন। এর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

বেলা আড়াইটায় বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আশিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘাটে যাত্রীদের আমরা ফিরে যেতে অনুরোধ করছি। কিন্তু তারা যাচ্ছে না। ঘাটের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে তারা বসে আছে।’ তিনি আরও বলেন, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটের টার্মিনালে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়েছে। পণ্যবাহী ট্রাক, কাঁচামালবাহী গাড়ি, কাভার্ড ভ্যান মিলিয়ে ৬০০ হবে। এ ছাড়া তিন শতাধিক ছোট গাড়ি পারাপারের জন্য ঘাটে অপেক্ষা করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন