বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ সকাল থেকে বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা অধিকাংশ ফেরিতে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চাপ ছিল বেশি। বিশেষ করে ভোরের দিকে প্রতিটি ফেরিতে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল অনেক। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাসের মতো যানবাহন ছিল। সকালের দিকে বাসসহ অন্যান্য গাড়ি তেমন একটা ছিল না। সকাল ১০টার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত ফেরিতে ভিড় স্বাভাবিক থাকলেও পাটুরিয়া থেকে আসা প্রতিটি যাত্রী পারাপারের লঞ্চে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ঘাটে এসে ভেড়ে। এ সময় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীদের লঞ্চ থেকে যাত্রীদের নামতে সহায়তা করতে দেখা যায়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে ফেরিতে ৬৮০টি যাত্রীবাহী বাস, ১০৬টি জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি, ১ হাজার ৭১০টি ব্যক্তিগত বা ছোট গাড়ি এবং ২ হাজার ২৫০টি মোটরসাইকেল পার হয়। মাত্র ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪ হাজার ৭৪৬টি যান পার হয়। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৭৯১টি, যা বিগত দিনের তুলনায় রেকর্ডসংখ্যক।

default-image

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৯টি ফেরি ছিল। এর মধ্যে দুটি ফেরি বেশ কয়েক দিন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামতের জন্য রাখা হয়। মেরামত শেষে তিন দিন আগে বহরে যুক্ত হয়। ১৯টির সঙ্গে ডকইয়ার্ডে থাকা রো রো (বড়) ফেরি গোলাম মাওলা ও ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি শাপলা শালুক গত বুধবার সন্ধ্যায় পাটুরিয়ায় আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বহরে যুক্ত হয়ে বর্তমানে ১১টি রো রো (বড়), ৭টি ইউটিলিটি (ছোট), ২টি ডাম্প, ১টি কে টাইপ ফেরিসহ মোট ২১টি ফেরি চলাচল করছে।

খালেদ নেওয়াজ আরও বলেন, বর্তমানে ২১টি ফেরি চালু থাকায় এখন পর্যন্ত খুব বেশি বেগ পোহাতে হয়নি। আশা করা হচ্ছে, এই ঈদে রাজধানী ছেড়ে যাওয়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া যাবে। তবে ঈদ–পরবর্তী সময়ে একত্রে মানুষ ছুটতে থাকলে তখন হয়তো বেশি বেগ পোহাতে হতে পারে। তবে বর্তমানে যাত্রীবাহী বাসের চেয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল রেকর্ড পরিমাণ পাড়ি দিচ্ছে, বিগত দিনে এমনটি দেখা যায়নি।

ঢাকা থেকে আসা মাদারীপুরগামী কলেজছাত্র এনামুল হক বলেন, ‘খুব সকালে গাবতলী থেকে লোকাল বাসে রওনা করে পাটুরিয়া ঘাটে এসে নামি। পথে তেমন কোনো ভোগান্তি বা যানজটে পড়তে হয়নি। ফেরিতে নদী পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়ায় এসে দেখছি কী করে বাড়ি যাওয়া যায়। অন্যান্যবারের চেয়ে আজ অনেকটা সহজেই ঘাট পাড়ি দিতে পারলেও মানুষের ভিড় ছিল বেশি।’

দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে দেখা যায়, প্রতিটি লঞ্চে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী বহন করা হয়েছে। ফেরিতে যানবাহনের সঙ্গে মানুষের উপচে পড়া ভিড় এড়াতে অনেকে লঞ্চে নদী পাড়ি দিচ্ছেন। কোথাও দাঁড়ানোর মতো জায়গা ছিল না। লঞ্চের নিচে ও ওপরে ঠাসাঠাসি করে লোকজনকে নদী পাড়ি দিতে দেখা যায়।

সাভারের নবীনগর থেকে আসা যশোরগামী যাত্রী সৌরভ শিকদার বলেন, ‘ঘাটের দুর্ভোগ এড়াতে সকালে লোকাল বাসে করে পাটুরিয়া নেমেই লঞ্চে উঠে পড়ি। কিন্তু লঞ্চঘাটে মানুষের ভিড়ের কারণে উঠতে অনেক কষ্ট হয়েছে। নদী পাড়ি দিয়ে ভাবছি কীভাবে যশোর যেতে পারি।’

বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক পরিদর্শক আফতাব উদ্দিন বলেন, আজ সকাল থেকে প্রচুর যাত্রী লঞ্চে পার হচ্ছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত চাপ অব্যাহত ছিল। এরপর তিন ঘণ্টার মতো স্বাভাবিক থাকলেও বেলা তিনটার পর থেকে ফের চাপ পড়তে শুরু করেছে। ঈদে ঘরমুখী যাত্রীর চাপ সামাল দিতে গতকাল থেকে লঞ্চ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ২১টি লঞ্চ চলাচল করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন