বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
কালীগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলার ১৭ ইউপিতে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ১৫ জন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদে কালীগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউপিতে ৫৫ জন এবং দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউপিতে ১৭ জন প্রার্থী রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা জানান, কালীগঞ্জের ১২ ইউপিতে ৯ জন বিদ্রোহী এবং দেবহাটার ৫ ইউপিতে ৯ জন বিদ্রোহী রয়েছেন।

এদিকে বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদে কালীগঞ্জের ১২ ইউপিতে ১০ জন এবং দেবহাটায় ৫ ইউপিতে ২ জন নেতা-কর্মী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ধলবাড়িয়া ইউপিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী স্বজল মুখার্জি বলেন, দল তাঁদের মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তাঁরা সমস্যায় রয়েছেন। তাঁদের চরিত্রহনন করা হয়েছে। আবার আওয়ামী লীগের উপজেলার নেতৃস্থানীয় কয়েকজন নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দিচ্ছেন। ফলে ভোটাররা দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ছেন।

নৌকা প্রতীক নিয়ে গতবার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন প্রশান্ত কুমার সরকার। তবে এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, ‘দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কেন মনোনয়ন দেওয়া হলো না, তা–ও জানতে পারিনি। স্থানীয় নেতা–কর্মীদের দাবির মুখে প্রার্থী হয়েছি।’

দেবহাটা সদর ইউপির নৌকা প্রতীকের আলী মোর্তজা মো. আনোয়ারুল হক বলেন, এখানে দলের দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। একজন নেতার মদদে তাঁরা প্রার্থী হয়েছেন। নৌকা প্রতীক না পেলেও তাঁরা আওয়ামী লীগের প্রার্থী দাবি করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। দল থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দেবহাটা সদর ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুবকর গাজী। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান। এবারও তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন। আবুবকর গাজী বলেন, তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মী রয়েছেন। মনোনয়নের ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে ন্যায্য বিচার করা হয়নি।

এই ইউপির আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম। তিনি ওই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান। নজরুল ইসলাম বলেন, দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তা না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মী রয়েছেন। নির্বাচনের ফল বলে দেবে কে যোগ্য!

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করিম আলী বলেন, একজন নেতা সব ইউপিতে দলের বাইরে একজন করে প্রার্থী নামিয়ে দিয়েছেন। ফলে ভোট কঠিন হয়ে পড়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা কিংবা কেন্দ্র থেকে। সেখানকার সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে।

দেবহাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান জানান, বিদ্রোহীদের তালিকা করে দুই-এক দিনের মধ্যে জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।

জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে ভুল ছিল, তা প্রমাণ হয়েছে দ্বিতীয় ধাপে সদর উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে। কালীগঞ্জ ও দেবহাটায় এখনই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তা না হলে সদর উপজেলার মতোই নির্বাচনে ভরাডুবি হবে।

এ সম্পর্কে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কমিটি থেকে এ বিষয়ে অভিযোগ এলে তাঁরা সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন