ফেসবুকে ওবায়দুল কাদেরকে কটূক্তি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা আটক

জিয়াউর রহমান ওরফে সম্রাট
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে কটূক্তি করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এক কর্মকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার বেলা ২টার দিকে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়ন থেকে জিয়াউর রহমান ওরফে সম্রাট (৩৫) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে ওবায়দুল কাদেরের নামে ফেসবুকে অশ্লীল কটূক্তির অভিযোগ এনে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কবিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। পুলিশ অভিযোগটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। জিয়াউর রহমান নোবিপ্রবির পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস (ডিপিডি) বিভাগের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত। তিনি ঘোষবাগ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তমপুর লামছি গ্রামের ইউছুফ ভূঁইয়ার ছেলে।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, জিডির পরিপ্রেক্ষিতে জিয়াউর রহমানকে শনিবার বেলা ২টার দিকে আটক করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে থানায় আছেন। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টের বিরুদ্ধে যে জিডি হয়েছে, তার আলোকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে, গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৮মিনিটের দিকে জিয়াউর রহমান তাঁর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে (সম্রাট এসএফ) সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে স্ট্যাটাস দিয়ে ওবায়দুল কাদেরের দীর্ঘদিনের অর্জিত মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করেন। অভিযোগে বলা হয়, বিবাদী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় সরকারের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়ে রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে জিয়াউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কল ধরেননি। তবে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টায় জিয়াউর রহমান তাঁর ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে দাবি করেন, তাঁর ফেসবুক আইডি হ্যাক করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। পরে আইডি পুনরুদ্ধার করে তিনি পোস্টটি ডিলিট করেন। নিজেকে ‘মুজিব আদর্শের সৈনিক’ দাবি করে তিনি বলেন, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ে তিনি বিব্রত বোধ করছেন এবং দুঃখও প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. দিদার-উল-আলম প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তা ছাড়া ওই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অফিস না করেই এক নেতার দাপট দেখিয়ে মাস শেষে বেতন নিয়ে যান বলেও অভিযোগ আছে। নানা কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না বলে জানান উপাচার্য।