অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জুবায়ের হিমেল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির পদপ্রত্যাশী। এ জন্য একটি গ্রুপ ওই তরুণীকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

তরুণীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওই তরুণী (২২) বুধবার সকালে জুবায়ের হিমেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে না নেওয়ায় ওই দিন তিনি নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে গিয়ে জুবায়েরের বিচারের দাবি করেন। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা ও অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার পরিবার একাধিকবার পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেও ঘটনা ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হয়। ভিডিও বার্তাটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে আগের অভিযোগটির পরিবর্তে নতুন করে আরেকটি অভিযোগ নেওয়া হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন বছর আগে ছাত্রলীগ নেতা জুবায়েরের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিয়ের কথা বলে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন জুবায়ের। একই সঙ্গে তরুণীর কাছ থেকে কৌশলে প্রায় এক লাখ টাকা দামের একটি আইফোন নিয়ে নেন তিনি। গত ৪ জানুয়ারি বিয়ের কথা বলে ওই তরুণীকে জুবায়েরের বাসায় ডেকে নেন শাকিল ও সবুজ। এ সময় জুবায়ের তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে জুবায়েরকে ওই তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি বিয়ে করতে রাজি হননি।

ওই তরুণী বলেন, বুধবার তিনি জুবায়ের হিমেলকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। নানা নাটকীয়তা শেষে তিন দিন পর কালিয়াকৈর থানা–পুলিশ শুক্রবার রাতে জুবায়ের ও তাঁর দুই সহযোগীকে আসামি করে একটি মামলা নেন। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ জুবায়েরকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। দ্রুত তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান ওই তরুণী।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান প্রথম আলোকে বলেন, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন