বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ক্ষমতাসীন দল, বিএনপির রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে সম্প্রতি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রৌশন আলী বিএনপি নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। ওই কথোপকথনের দেড় মিনিটের একটি অডিও গতকাল ভাইরাল হয়।

বিএনপির ওই নেতার সঙ্গে কথোপকথনে সময় রৌশন আলীকে বলেন, ‘যাঁরা নৌকা করে সব রাজাকারের বাচ্চা। কী করবেন রাজনীতি কইরা? রাজনীতি ছাড়েন! যে দেশে টাকা দিলে নমিনেশন পাওয়া যায়, যে দেশে টাকা দিলে মন্ত্রিত্ব পাওয়া যায়, যে দেশে টাকা দিলে সব আকাম–কুকাম শেষ হয়।... আপনারা মামলা–হামলার ভয়ে মাঠে নামেন না, একচেটিয়া কি একটি দেশ চলে? বিরোধী দল সব সময় স্ট্রং (শক্তিশালী) থাকতে হয়। আপনারা যদি সুযোগ দেন, তাহলে তো অপকর্ম হবেই। যা ইচ্ছা, তা-ই হবে।’

রৌশন আলীকে ওই অডিওতে আরও বলতে শোনা যায়, ‘দেশের এই অধঃপতনের জন্য দায়ী অপনারা। আপনারা দেবীদ্বারে কই? কোন বিএনপি নেতা মাঠে বের হতে পেরেছে? মাঠে নেমে মিছিল, মিটিং করেন। আমি আপনাদের সুযোগ করে দিই, অসুবিধা কী? আমি মঞ্জু (বিএনপি দলীয় চারবারের নির্বাচিত সাবেক সাংসদ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী) ভাইকে বলেছি, দেশে (দেবীদ্বারে) যান। আন্দোলন করেন। তাহলে বুঝব,  আপনারা রাজনীতি করেন। রাজনীতি করতে হলে নেতৃত্ব দিতে হবে। নেতৃত্ব দিতে হলে আন্দোলন–সংগ্রাম করতে হবে।’

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই অডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে রৌশন আলী বলেন, ‘বিএনপি নেতার সঙ্গে পাঁচ দিন আগে আমার মুঠোফোনে ১০ মিনিট  কথা হয়েছে। তখন একথা–ওকথায় দেবীদ্বারের রাজনীতি নিয়ে কথা হয়। ওই বক্তব্য যাঁরাই ফাঁস করেছেন, খণ্ডিত করে করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কারা দলের নেতা–কর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামিয়ে অন্তত ৬০ হাজারের মতো ভোট দিয়েছেন প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা জানেন। যাঁরা ধানের শীষের পক্ষে ছিলেন, তাঁদের নিয়ে আমার এই ক্ষোভ। আজ যাঁরা মজা নিচ্ছেন, তাঁরা কোথায় ছিলেন? বিএনপির আমলে আমাকে রাস্তায় ফেলে মারা হয়, তখন তো সুবিধাবাদী চক্রকে মাঠে দেখা যায়নি।’

রৌশন আলীর এমন মন্তব্য নিয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের অধীন সাত উপজেলার নেতা–কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন বলেন, ‘ফোনালাপ শুনে আমি তাজ্জব। এই ধরনের বক্তব্য আপত্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন