বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ফোয়াদ যে বাড়িতে খেতে আসেন, ওই বাড়ির চারদিকে পুলিশ অবস্থান নেয়। এসআই শফিকুল ইসলাম একটি রিকশায় চড়ে এ অভিযানে অংশ নেন। তাঁর সঙ্গে ঢাকার পুলিশ, সোর্সসহ মোট আটজন এ অভিযানে যুক্ত হন।

ফোয়াদ ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় অবস্থান করছেন, গোপন সূত্রে এমন তথ্য জানতে পারে পুলিশ। এরপর একে একে অভিযান ও গ্রেপ্তারের ছক কষা শুরু করে ডিবি পুলিশ। এরপর গত সোমবার রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।

গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় পৌঁছে তাঁরা সোর্সের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ জানতে পারে, ফোয়াদ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ১২ নম্বর সড়কের একটি বাসায় বসবাস করেন। তিনি খাওয়াদাওয়া করতে সি ব্লকের ৮ নম্বর সড়কের একটি ভবনে আসেন।

ফোয়াদ যে বাড়িতে খেতে আসেন, ওই বাড়ির চারদিকে পুলিশ অবস্থান নেয়। এসআই শফিকুল ইসলাম একটি রিকশায় চড়ে এ অভিযানে অংশ নেন। তাঁর সঙ্গে ঢাকার পুলিশ, সোর্সসহ মোট আটজন এ অভিযানে যুক্ত হন। তবে পুলিশের গাড়ি একটু দূরে রাখা হয়, যেন ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে গাড়িটি ওই বাড়ির সামনে চলে আসতে পারে। অভিযানে অংশ নেওয়া ওই আটজন ছাড়াও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফরিদপুরের দুই পুলিশ কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন।

default-image

ওই বাড়ি ঘিরে অবস্থান নেওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর একটি প্রাইভেট কার ওই বাড়ির সামনে এসে থামে। ওই কার থেকে টার্গেট ব্যক্তি (ফোয়াদ) নেমে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। ফোয়াদ ওই বাড়ি থেকে ফিরে যাওয়ার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে—এমন পরিকল্পনা করা হয়। তিনি যেন গাড়ি চালিয়ে পালাতে না পারেন, এ জন্য একটি রিকশা দিয়ে গাড়িটি ব্যারিকেড দেওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর ওই বাড়ি থেকে ফোয়াদ বেরিয়ে আসেন। তিনি গাড়িতে উঠতে গেলেই তাঁর সামনে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন এসআই মো. শফিকুল ইসলাম।

শফিকুল বলেন, ‘ফোয়াদ ভাই দাঁড়ান, আমরা ফরিদপুরের ডিবি, আমাদের সঙ্গে যেতে হবে।’ এই কথা বলার পরপরই ফোয়াদ হার মেনে নেন। তিনি এত সহজে হার মানবেন, সেটি ধারণা ছিল না। এরপরই তিনি পুলিশের গাড়িতে উঠে পড়েন। তারপর ফোয়াদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ফরিদপুরের পুলিশ সুপারকে জানানো হয়।

গ্রেপ্তারের সময় ফোয়াদের পরনে ছিল জিনস প্যান্ট ও নীল রঙের টি-শার্ট। এ ছাড়া মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরে তিনি কৌশলে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন। ফোয়াদের সঙ্গে থাকা গাড়িটি দৈনিক তিন হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফরিদপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুনিল কর্মকার বলেন, ২০২০ সালের জুন থেকে ফোয়াদকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর ছিল। তাঁকে ধরার জন্য একাধিকাবার ফরিদপুর, ঢাকার মোহাম্মদপুর, পান্থপথ ও ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। এসব অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছেন ফোয়াদ।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ফোয়াদ অত্যন্ত চতুর। তিনি কৌশলে এত দিন নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। তবে সবকিছুর তো একটা শেষ আছে। এ জন্য ফোয়াদও এখন পুলিশের কবজায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন