মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি

‘বউকে বোন বানানো’র সত্যতা পেয়েছে শিক্ষা বিভাগ

বিজ্ঞাপন
default-image

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বউকে ‘বোন’ পরিচয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি বাগিয়ে নেওয়ার সত্যতা পেয়েছে শিক্ষা বিভাগ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এখন বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সোমবার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক।

প্রতারণার এ ঘটনায় নাম আসা ব্যক্তির নাম আশরাফুল আলম। তিনি উপজেলার জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রবিয়ার চর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে মাদারের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশরাফুল। তাঁর বাবা সহিদুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ২৯ আগস্ট প্রথম আলোয় ‘বউকে বোন পরিচয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে উঠে আসে, আশরাফুলের স্ত্রী নাসরিন আক্তার টুপকার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। আর আশরাফুলের খালাতো বোন শাপলা আক্তার খেয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এই তিনজনই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২০১৬ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেন। তিনজনই জন্ম সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে বাবা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা সহিদুর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে তখন বক্তব্য জানতে আশরাফুলের মুঠোফোন নম্বরে ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। বাড়িতে গিয়েও আশরাফুলকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর খালাতো বোন শাপলা ও মা মনোয়ারা বেগমকে পাওয়া যায়। শাপলা আক্তার তখন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তাঁর চাকরি হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। আশরাফুলই তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। এ জন্য ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন। আর নাসরিন আক্তারও আশরাফুলের বোন নন; আসলে তিনি তাঁর স্ত্রী।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নজরে আসে। বিষয়টি তদন্তের জন্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ আসে জামালপুরে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নজরে আসে। বিষয়টি তদন্তের জন্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ আসে জামালপুরে। কিন্তু বিষয়টি বছর দুয়েক আগেও একবার তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। সেই তদন্তে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক, যিনি পদোন্নতি পেয়ে এখন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। বিষয়টি জানার পর সেই প্রতিবেদনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর আশরাফুলের স্ত্রী ও খালাতো বোনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের নির্দেশনা চেয়ে গত মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি দেন কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক। আর আশরাফুল আলম দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে যান না। অনুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত থাকাসহ আরও নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় গত ৭ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগের তদন্ত প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোও হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে পরে কী হয়েছিল, সেটা আমার জানা নেই। প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমার কাছে জানতে চায়। তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার বিষয়টি আমি তাদের জানাই। এরপর বিভাগীয় মামলা দায়েরের মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর। মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমতির জন্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে অনুমোদন এলেই মামলা করব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন