বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খোরশেদ আলম বলেন, ‘বকনার দুধ নিয়ে বিপদেই পড়েছিলাম। অন্যদিকে পাশের গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ১৫ দিনের বাছুরটি মায়ের দুধ না পেয়ে কাহিল হয়ে পড়েছিল। তিনিও চিন্তায় পড়েছিলেন তাঁর বাছুরকে নিয়ে। এ অবস্থায় দুইজনেরই উপকার হয়েছে। বাছুরটি আগামী ৬ মাস দুধ খেতে পারলে তার মূল্য হবে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।’

অবশ্য এ ধরনের ঘটনায় আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই বলে জানালেন সখীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল জলিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হরমোনের কারণে এমনটা হয়। তবে এমন ঘটনাও বিরল। একটি বকনা বাছুর প্রসব ছাড়াই আপনা-আপনিই দুধ দিচ্ছে। অন্যদিকে আরেক বাছুর জন্ম নিয়েও মায়ের দুধ পাচ্ছে না। খোরশেদ আলম একটি ভালো কাজই করেছেন। দুই বাছুরেই উপকার হয়েছে। সবই সৃষ্টির রহস্য।

সোমবার সকালে খোরশেদ আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, এক মাসের ওই বাছুর মায়ের মতোই বকনার দুধ খাচ্ছে। খোরশেদ আলমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মায়ের মমতা, আদর ও ভালোবাসা পেয়ে যেমন একটি শিশু আস্তে আস্তে বড় হয়, তেমনি কেনা বাছুরটি বকনার দুধ খেয়ে বড় হচ্ছে। আগে গরুর ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করে কুকুর-বিড়ালকে খাওয়াইছি। এখন আর ওলান থেকে দুধ দোয়াতে হয় না। ছোট বাছুরটিই বকনার দুধ পান করছে। এখন আমার খুব ভালো লাগছে, আনন্দ লাগছে।’

খোরশেদ আলমের স্ত্রী মর্জিনার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তিনি গাভি পালন করছেন। ১৩ মাস আগে তাঁর পালিত বিদেশি জাতের গাভিটির বাছুর হয়। আর সেই বাছুরকে লালন-পালন করে আসছেন তিনি। তিন মাস আগে ১০ মাস বয়সী বাছুরকে গোসল করাতে গেলে গরুটির ওলান ফোলা দেখে ধারণা করেন, এতে দুধ জমেছে। তিনি তাৎক্ষণিক গরুটির ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করেন। প্রথম কয়েক দিন আধা লিটার দুধ পান তিনি। এরপর দুধের পরিমাণ বাড়তে থাকে। ওই সময় বকনাটিকে দেখতে মানুষ ভিড় করে।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী বাদল বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশেই এ ঘটনা। বাছুর জন্ম দেওয়া ছাড়াই বকনা বাছুরটি দুধ দিচ্ছে, এমন ঘটনা দেখতে উৎসুক মানুষ খোরশেদ আলমের বাড়িতে ভিড় করে। এখন আবার ছোট একটি বাছুর ওই বকনার দুধ খেয়ে বড় হচ্ছে।’

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন