বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শ্রমিকেরা আরও বলেন, ২০১১ সাল থেকে পাঁচ বাগানে কোনো স্থায়ী চিকিৎসক নেই। বাগানের কর্মকর্তারা সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বলেন। কিন্তু সেখানে যন্ত্র না থাকায় শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় শ্রমিকেরা বেসরকারি রোগ নির্ণয়কেন্দ্র অথবা হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। কিন্তু কোম্পানির পক্ষ থেকে সে চিকিৎসার খরচ দেওয়া হয় না।

এ ছাড়া শ্রমিকদের কাঁচা বসতঘর মেরামত হচ্ছে না। বৃষ্টিতে তাঁদের ঘরে পানি চুঁইয়ে পড়ে। কাপড়চোপড় ও মালামাল নষ্ট হচ্ছে। এসব দাবি আদায়ে পাঁচ বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে কর্মবিরতির কর্মসূচি নেওয়া হয়।

সকাল ১০টার দিকে দেখা গেছে, ধামাই বাগানের ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে সামনে শত শত শ্রমিক জড়ো হয়েছেন। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগানও দেন। বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি যাদব রুদ্রপাল বলেন, বাগানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তাঁরা একাধিকবার দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছেন। কিন্তু ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। তাই বাধ্য হয়ে কর্মবিরতির কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি চলবে। প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ার করেন।

এ বিষয়ে আকিজ টি কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক কাজল মাহমুদ বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের মে মাসে পাঁচটি বাগানের পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। ১০ সপ্তাহের রেশনের বিষয়টি বেশ পুরোনো। আগের প্রতিষ্ঠান বাগান হস্তান্তরকালে বিষয়টি তাঁদের জানায়নি। প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চা–শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরির বিষয়ে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজল মাহমুদ আরও বলেন, প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩৯৫ শ্রমিককে নতুন ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। এ বছর নতুন করে আরও ১৭টি ঘর নির্মাণসহ ৬১টি পুরোনো ঘর সংস্কার করে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে পাঁচ বাগানের জন্য স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। আর বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালে কোনো শ্রমিক চিকিৎসা নিলে খরচ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন