সিংড়ার সারদানগর মাঠ থেকে পাখি শিকারের ৪০টি ফাঁদ উদ্ধার করেন পরিবেশকর্মীরা। আজ শনিবার দুপুরে
সিংড়ার সারদানগর মাঠ থেকে পাখি শিকারের ৪০টি ফাঁদ উদ্ধার করেন পরিবেশকর্মীরা। আজ শনিবার দুপুরে প্রথম আলো

নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলে বক ও রাতচরা পাখি হত্যার পর এবার হুটটিটি পাখি হত্যা শুরু হয়েছে। শিকারিরা বিলের শুকিয়ে যাওয়া খানাখন্দ থেকে এসব পাখি শিকার করে বিক্রির জন্য হত্যা করছেন। আজ শনিবার দুপুরে স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা মুষ্টিগড় ও সারদানগর মাঠ থেকে জবাই করা ৪টি হুটটিটি পাখিসহ ২০টি পাখি উদ্ধার করেছেন। এ সময় তাঁরা ধ্বংস করেছেন পাখি শিকারের ৪০টি ফাঁদ।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন পরিবেশকর্মী এ অভিযান চালান। চলনবিলের দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত মুষ্টিগড় ও সারদানগর মাঠে পাখিশিকারিদের বিরুদ্ধে এ অভিযানে তাঁরা পাখি শিকারের ৪০টি ফাঁদের সন্ধান পান। তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারিরা পালিয়ে গেলেও তাঁদের পেতে রাখা ফাঁদগুলো ধ্বংস করা হয়। এ সময় ফাঁদে আটকানো ১৪টি হুটটিটি পাখি উদ্ধার করেন পরিবেশকর্মীরা। পরে গোপন খবরের ভিত্তিতে তাঁরা মুষ্টিগর গ্রামের পাখিশিকারি খুরশেদ আলীর বাড়ি থেকে চারটি জবাই করা হুটটিটি ও একই গ্রামের টুকু মিয়ার বাড়ি থেকে খাঁচায় বন্দী দুটি বক পাখি উদ্ধার করেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

দুপুরে এসব পাখি সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. নাসরিন বানুর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জীবিত পাখিগুলো অবমুক্ত করেন। এ সময় মৃত পাখিগুলো মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ সময় বিবিসিএফের শাখা সংগঠন কলম প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চলনবিলে বকশিকারিদের বিরুদ্ধে আমাদের তৎপরতা সম্পর্কে জানার পর শিকারিরা এবার বিলুপ্তপ্রায় পাখি হুটটিটি ও ডাহুক হত্যা করতে শুরু করেছেন। তবে বক, হুটটিটি, ডাহুক পাখি ছাড়াও যেকোনো ধরনের পাখি শিকারের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা চলনবিলকে পাখিশিকারিমুক্ত করবই।’

মন্তব্য পড়ুন 0