default-image

বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়কে বাসের চাপায় এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। আজ রোববার বেলা একটার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উপজেলার ধনকুন্ডি আমতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ইউনিয়নের চক পাহাড়ি গ্রামের আবদুল হাই (৬০), একই গ্রামের মো. আলামিন (২৮) ও ঘাসুরিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে সুলতান মাহমুদ (১০)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিন চাকার একটি ভ্যানগাড়ি যাত্রী নিয়ে উপজেলার মহাসড়কের আমতলা হয়ে যাচ্ছিল পাশের চান্দাইকোনা বাজারে। এ সময় আলরিয়া পরিবহনের একটি বাস সিরাজগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। বেলা একটার দিকে আদালত বাজারমুখী ভ্যানটিকে বাসটি চাপা দেয়। এতে তিন চাকার ভ্যানগাড়ির যাত্রীরা মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। এ সময় বাসের চাকার পিষ্ট হয়ে ভ্যানের তিন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ভ্যানগাড়িতে থাকা আরও দুজন এ ঘটনায় আহত হয়েছেন।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রতন হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর বেলা দেড়টার দিকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিলেন ভ্যানগাড়ির যাত্রীরা। এ সময় মহাসড়কে অন্তত আধঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার অন্তত এক ঘণ্টা পর সিরাজগঞ্জ রোডের একটি হোটেলের সামনে বাসটি রেখে বাসের চালক ও সহকারী দ্রুত পালিয়ে যান। বাসটি এখন হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

default-image

উপপরিদর্শক আশরাফুল আরও বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের লাশে পরিচয় তাঁদের আত্মীয়স্বজন নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে নিহত ব্যক্তিদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় বাসের ধাক্কায় আবদুল হামিদ (৬০) নামের সাইকেল আরোহী এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ সময় সাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় বাসের অন্তত ছয় যাত্রী আহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনাও ঘটেছে আজ বেলা একটার দিকে। ধামইরহাট-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার পিড়লডাঙ্গা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আবদুল হামিদের বাড়ি উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের বিকন্দখাস গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকন্দখাস গ্রাম থেকে আবদুল হামিদ বাইসাইকেলে চেপে ধামইরহাট উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। পথে জয়পুরহাট-ধামইরহাট সড়কের পিড়লডাঙ্গা মোড়ে পৌঁছালে যাত্রীবাহী একটি বাস তাঁকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে সাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে দুর্ঘটনার সময় সাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে বাসের ছয় যাত্রী আহত হন। আহত যাত্রীরা হলেন নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার আবদুল কাদের (৩৫), একই উপজেলার সাগরিকা (৮), মতিবুল (১৩), নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মর্জিনা খাতুন (৩২), নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার শংকরপুর গ্রামের বিদ্যুৎ হোসেন (৩৩) ও পত্নীতলা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের নূরানী খাতুন (৪২)। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0