default-image

বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে কলেজের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার রাত নয়টার দিকে কলেজের শহীদ মুন হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। রাতে প্রাথমিকভাবে ছিনতাইকারীর হামলার ঘটনা মনে করা হলেও আজ সোমবার সকালে পুলিশ বলেছে, এটি খুনের ঘটনা হতে পারে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম বিশু মিয়া (৩২)। তাঁর বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে। বিশু মিয়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে চার বছর আগে মাস্টার্স পাস করে কলেজসংলগ্ন জামিলনগর এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থেকে চাকরি খুঁজছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

সরকারি আজিজুল হক কলেজের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখভাল করে বগুড়ার স্টেডিয়াম ফাঁড়ির পুলিশ। আজ সকালে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, এ খুন ছিনতাইকারীর কাজ। কিন্তু সুরতহাল প্রতিবেদন করার সময় দেখা যায়, নিহত ব্যক্তির প্যান্টের পকেটে মানিব্যাগ অক্ষত আছে। মানিব্যাগে চার হাজার টাকা ও পকেটে থাকা দুটি মুঠোফোনও ঠিকঠাক আছে। ছিনতাইকারীর কাজ হলে টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে যেত। খুনের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশু মিয়ার ছোট বোন জাহানারা খাতুনও সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী। জাহানারা বলেন, তাঁর ভাই মেসের খরচের টাকা আনতে বাড়ি গিয়েছিলেন। গতকাল বাড়ি থেকে চার হাজার টাকা নিয়ে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে আটটার দিকে সর্বশেষ তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। এ সময় তিনি জানান, কলেজ ক্যাম্পাসের মুন হলের সামনে দিয়ে হেঁটে জামিলনগর মেসের দিকে যাচ্ছেন তিনি। মেসে পৌঁছার পর কল দেবেন। এর কয়েক মিনিট পরই সেখানে ভাইয়ের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ছুটে যান জাহানারা।

পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার মুন হলের সামনের সড়কেই দুর্বৃত্তদের হামলা ও ছুরিকাঘাতের শিকার হন বগুড়ার পুলিশ লাইনসে কর্মরত এসআই রবিউল ইসলাম। তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সরকারি আজিজুল হক কলেজসংলগ্ন জহুরুলনগর এলাকার বাসিন্দা ও কলেজশিক্ষক জিয়াউল ইসলাম বলেন, জহুরুলনগর এলাকার কয়েক শ ছাত্রাবাস ও বাসাবাড়িতে বসবাসকারীদের মুন হলের সামনের সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সড়কটিতে রাতে আলোর ব্যবস্থা নেই। এ কারণে সন্ধ্যার পর এই সড়ক ‘ভয়ংকর’ হয়ে ওঠে। আগেও এই সড়কে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে একজন নৈশপ্রহরী নিহত হন। বেশ কিছু অপরাধও সংঘটিত হয় এই সড়কে। এ কারণে সন্ধ্যার পর এখন এই সড়কে চলাচল এলাকাবাসীর কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন