বিজ্ঞাপন

​অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রণবাঘা হাট উপজেলা পরিষদকে না জানিয়ে অনৈতিকভাবে  গত বছরের চেয়ে অর্ধকোটি টাকা কম মূল্যে এবার ইজারা দেওয়া হয়েছে। হাট ইজারায় উপজেলা পরিষদের মতামত নেওয়ার কথা থাকলেও তা নেওয়া হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফকে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে  তিনি আমাদের অপদস্থ করেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।’

উপজেলা চেয়ারম্যানদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে বুধবার অ্যাসোসিয়েশনের জরুরি সভা তলব করা হয়। সেখানে দু–একজন বাদে জেলার ১২ উপজেলার সব চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে হাট ইজারা বাতিলসহ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ​জেলা প্রশাসকের সব সভা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবু সুফিয়ান, বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান বলেন,‘ উপজেলা চেয়ারম্যানদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে বুধবার অ্যাসোসিয়েশনের জরুরি সভা তলব করা হয়। সেখানে দু–একজন বাদে জেলার ১২ উপজেলার সব চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে হাট ইজারা বাতিলসহ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ​জেলা প্রশাসকের সব সভা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ অভিযোগ করেন, উত্তরাঞ্চলে ধান বেচা–বিক্রির অন্যতম বড় মোকাম বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা হাট ও বাজার গত বছর ইজারা দেওয়া হয়েছিল ১ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার টাকায়। এ বছর একই হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে ৮৩ লাখ ৪০ হাজার টাকায়, যা গত বছরের চেয়ে ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা কম।

উপজেলা চেয়ারম্যানের অভিযোগ, ‘ভুয়া’ নামে এই হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সাবেক সাংসদ এবং জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও বগুড়া জেলার সভাপতি এ কে এম রেজাউল করিমকে।

উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ আরও অভিযোগ করেন, সরকারি হাটবাজার ইজারা নীতিমালার ২-এর ১০ উপধারা অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন হাটবাজার ইজারার ক্ষেত্রে পরিষদের সাধারণ বা বিশেষ সভার কার্যবিবরণীসহ মতামত চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর কথা। কিন্তু রণবাঘা হাটের ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদকে কিছুই জানানো হয়নি। এ কে এম রেজাউল করিমকে গত বছরের চেয়ে অর্ধকোটি টাকা কম মূল্যে হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারাদারের নাম জালিয়াতি করে এ কে এম রেজাউল করিমের বদলে আবদুল করিম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাবার নাম ঠিক রাখা হয়েছে। রণবাঘা হাটে ধান বেচাবিক্রির পাশাপাশি গরুর হাটও বসে।

হাটবাজার ইজারা কমিটির সদস্য ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল চন্দ্র মহন্ত বলেন, ১৭ মে ইজারা কমিটির সভায় আপত্তি উপেক্ষা এবং উপজেলা পরিষদকে না জানিয়েই বিধিমালা লঙ্ঘন করে মেসার্স রাহী এন্টারপ্রাইজকে হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। রাহী এন্টারপ্রাইজের মালিক সাবেক সাংসদ রেজাউল করিম হলেও ইজারার নথিতে নাম আবদুল করিম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটের ইজারাদার ও  সাবেক সাংসদ এ কে এম রেজাউল করিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রণবাঘা হাটে টোল আদায় হয় ধানের আড়ত থেকে। গরুর হাট বসে বছরের মাত্র তিন মাস। গত বছর হাটের ইজারামূল্য ১ কোটি ৩৩ লাখ হলেও এ বছর কেউ ডাকে অংশ নেয়নি। খাস আদায়ের নামে হাটের টোলের টাকা লুটেপুটে খাওয়ার চেষ্টা করছিলেন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। সরকারের রাজস্ব আদায়ের স্বার্থেই পঞ্চম দফায় ৮৩ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা নিয়েছেন।’

‘ভুয়া’ নামে হাট ইজারা নেওয়ার বিষয়ে সাবেক এই সাংসদ বলেন, ‘নাম যা–ই হোক, রাহী এন্টারপ্রাইজ আমার প্রতিষ্ঠান। আমার বাবার নাম মজিবর রহমান।’ তাঁর দাবি, আবদুল করিম তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘রণবাঘা হাট ইজারার জন্য দরপত্র ক্রয় ও দাখিলের পাঁচটি আলাদা তারিখ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রথম চার দফায় কেউ ডাকে অংশ নেননি। পঞ্চম দফায় একজন ইজারাদার ৮৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা ডাক দেন। আর কোনো দরদাতা না পাওয়ায় নীতিমালা অনুসরণ করেই সর্বোচ্চ দরে হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারা বাতিল চেয়ে দুজন উপজেলা চেয়ারম্যান আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। ইজারা বাতিল সম্ভব নয় বলে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কোনো সৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়নি। ইজারা বাতিল করতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা এসব অভিযোগ তুলছেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন