বগুড়ার ৯ পৌরসভা

ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ, এখনই মাঠে নেতারা

বিজ্ঞাপন
default-image

বগুড়ার নয়টি পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ডিসেম্বরে। এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি। তবে ইতিমধ্যে সব এলাকায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে-ময়দানে আগাম প্রচারে সরব হয়ে উঠেছেন। অনেকেই ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, উঠান বৈঠক ও কর্মী সমাবেশ শুরু করছেন। সামাজিক নানা অনুষ্ঠানে হাজির হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভোটারদের কাছে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

সবচেয়ে বেশি তোড়জোড় চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে। কোনো কোনো পৌরসভায় মেয়র পদে চার-পাঁচজন মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে নেমেছেন। মনোনয়ন পেতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও গোপনে চালাচ্ছেন তোড়জোড়। গত নির্বাচনে বেশ কিছু পৌরসভায় জামায়াত প্রার্থী দিলেও এবার ব্যতিক্রম। পুলিশি হয়রানি আর মামলার কারণে কেউ মাঠে নামার সাহসই পাচ্ছেন না।

বগুড়া জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, জেলায় ১২টি পৌরসভার মধ্যে দুপচাঁচিয়া, তালোড়া ও সোনাতলা পৌরসভা বাদে বাকি নয়টি পৌরসভায় সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর। বর্তমান মেয়রদের মেয়াদের পাঁচ বছর শেষ হতে যাওয়ায় এসব পৌরসভায় আগামী ডিসেম্বরে ভোটের কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
নয়টি পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় ডিসেম্বরে নির্বাচনের কথা রয়েছে। এগুলো হলো বগুড়া সদর, সারিয়াকান্দি, শিবগঞ্জ, সান্তাহার, কাহালু, নন্দীগ্রাম, শেরপুর, ধুনট ও গাবতলী।

নয়টি পৌরসভা হলো বগুড়া সদর, সারিয়াকান্দি, শিবগঞ্জ, সান্তাহার, কাহালু, নন্দীগ্রাম, শেরপুর, ধুনট ও গাবতলী। বগুড়া পৌরসভায় ওয়ার্ড রয়েছে ২১টি। বাকি পৌরসভাগুলোয় নয়টি করে ওয়ার্ড আছে। সব মিলিয়ে মেয়রের নয়টি পদের পাশাপাশি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৯৩টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৩১টি পদ রয়েছে।

বগুড়া: আয়তন ও ভোটারসংখ্যার দিক থেকে জেলার মধ্যে বগুড়া পৌরসভা সবচেয়ে বড়। ১৪৫ বছরের পুরোনো এই পৌরসভায় ভোটার আড়াই লাখের বেশি। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে অনেকের নাম। আলোচনায় আছেন গতবারের দলীয় প্রার্থী ও পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক সম্পাদক মাসুদুর রহমান, বগুড়া জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান আকন্দ, পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন শেখ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সরকারি কৌঁসুলি আবদুল মতিন, শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদৎ হোসেন এবং জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন বর্তমান মেয়র ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ কে এম মাহবুবর রহমান। তিনি ছাড়াও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি সিপার আল বখতিয়ার, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও জেলা বিএনপির সদস্য এম আর ইসলাম স্বাধীনের নাম শোনা যাচ্ছে।
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান বলেন, কেন্দ্র থেকে পৌরসভা নির্বাচনের ব্যাপারে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে দলের অনেকেই মনোনয়নের আশায় মাঠে সরব হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সারিয়াকান্দি: এখানে আওয়ামী লীগের পাঁচজন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে মাঠে সরব দেখা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রশিদ ফরাজী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবদুল হামিদ সরদার। অন্যদিকে বিএনপি থেকে এখানে সাবেক মেয়র টিপু সুলতানের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন এবং উপজেলা বিএনপির মাসুদুর রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশী।
গাবতলী: এই পৌরসভার বর্তমান মেয়র সাইফুল ইসলাম। তিনি গাবতলী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি ছাড়াও মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক আলোচনায় আছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে গতবারের প্রার্থী মোমিনুল হক ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আজিজার রহমান পাইকারের নাম শোনা যাচ্ছে। মেয়র সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মভিটা গাবতলীতে। এখানকার সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসে জিয়া পরিবার থেকে। তারা যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই প্রার্থী হবেন।
কাহালু: আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অনেকেই দৌড়ঝাঁপ করছেন। এগিয়ে রয়েছেন কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান মেয়র হেলালউদ্দিন কবিরাজ এবং তাঁর ভাই কামাল উদ্দিন কবিরাজ। আর বিএনপিতে গত নির্বাচনের প্রার্থী আবদুল মান্নান ছাড়াও ফরিদুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নন্দীগ্রাম: আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আগাম প্রচার চালাচ্ছেন পৌরসভায় প্যানেল মেয়র আনিছুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ আশরাফ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কামরুল হাসান। গতবার এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন প্রয়াত রফিকুল ইসলাম। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি কামরুল হাসান সিদ্দিকী, উপজেলা কমিটির সদস্য ও সাবেক মেয়র সুশান্ত কুমার, পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী এ কে এম ফজলুল হক কাশেম। জাসদের সম্ভাব্য প্রার্থী মাহবুবুর রহমান।
শিবগঞ্জ: শিবগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র তৌহিদুর রহমান। তিনি এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান দলীয় মনোনয়ন চান। অন্যদিকে বিএনপিতে সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান মাঠে সরব রয়েছেন।
শেরপুর: আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বর্তমান মেয়র আবদুস সাত্তারের পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলে সারোয়ার রহমান, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম পোদ্দার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তারিকুল ইসলাম আলোচনায় আছেন। বিএনপি থেকে সাবেক দুই মেয়র জানে আলম ও স্বাধীন কুমার কুণ্ড মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পৌর নির্বাচনে বিএনপি যাবে কি না, তা তফসিল ঘোষণার পর সিদ্ধান্ত হবে। ...আপাতত আমরা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে দেশে ফেরানোর আন্দোলন ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না।
গোলাম মো. সিরাজ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, বগুড়া

ধুনট: বর্তমান মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সম্পাদক এজিএম বাদশাহ ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টিআই নুরুন্নবী তারিক, সহসভাপতি রেজাউল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম খান মনোনয়নপ্রত্যাশী। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক মেয়র আলিমুদ্দিন হারুন মণ্ডল বিএনপির মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
সান্তাহার: আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় আছেন শ্রমিক লীগের নেতা রাশেদুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র জার্জিস আলম ও আশরাফুল ইসলাম। বিএনপি থেকে মনোনয়ন চান বর্তমান মেয়র তোফাজ্জল হোসেন, সাবেক মেয়র ফিরোজ মো. কামরুল হাসানসহ বেশ কয়েকজন।

বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বগুড়া-৬ আসনের সাংসদ গোলাম মো. সিরাজ বলেন, ‘পৌর নির্বাচনে বিএনপি যাবে কি না, তা তফসিল ঘোষণার পর সিদ্ধান্ত হবে। ...আপাতত আমরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে দেশে ফেরানোর আন্দোলন ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন