করোনাভাইরাসের সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় ধরে লড়াই করে অবশেষে হেরে গেলেন আবু সৈয়দ মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (আ স ম কামারুজ্জামান)। তিনি আজ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
এর আগে গাবতলীর সৈয়দ আহম্মদ কলেজের অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক করোনায় মারা যান।

বিজ্ঞাপন
default-image

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবু সৈয়দ মোহাম্মদ কামারুজ্জামান বগুড়ার সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। একই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৬ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ জেলা কমিটিরও সদস্য ছিলেন। তাঁর বাড়ি রাজশাহী শহরের সাগরপাড়া এলাকায়। তবে চাকরিসূত্রে তিনি বগুড়া শহরের সূত্রাপুর গাজী পল্লব প্যালেসের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

বিজ্ঞাপন

আবু সৈয়দ মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের জামাতা ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা শাফিউল আজম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর শ্বশুরের জ্বর-শ্বাসকষ্টসহ করোনাভাইরাসের নানা উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা সংগ্রহ করে প্রথম দফা গত ৬ আগস্ট শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের আরটি–পিসিআর ল্যাবরেটরিতে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেখান থেকে আসা প্রতিবেদনে করোনা নেগেটিভ উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এক্সরে রিপোর্টসহ ল্যাবরেটরি রিপোর্টে তাঁর দেহে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়াসহ শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অস্বাভাবিক কমে গেলে ১০ আগষ্ট শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়। সেখানে আরেক দফা নমুনা সংগ্রহ করে মেডিকেল কলেজের আরটি–পিসিআর ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হলে সেখান থেকে আসা প্রতিবেদনে ২৩ আগস্ট তিনি করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। এরপর তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। আজ দেড়টার দিকে আইসিইউতে তিনি মারা যান।

বিজ্ঞাপন

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ করোনায় ওই শিক্ষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, আজ পর্যন্ত বগুড়ায় কোভিড পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ৭ হাজার ১২৯ জন। তাঁদের মধ্যে মারা গেছেন ১৭০ জন।

মন্তব্য পড়ুন 0