বগুড়ায় করোনায় ৬ জনের মৃত্যু, অর্ধেক রোগী সীমান্তবর্তী এলাকার

করোনাভাইরাস।
প্রতীকী ছবি

বগুড়ায় গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটা থেকে আজ সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শহরের তিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ করোনা রোগী মারা গেছেন। এর মধ্যে তিনজন নওগাঁ এবং দুজন জয়পুরহাট জেলার বাসিন্দা। অন্য একজনের বাড়ি বগুড়া শহরে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিক আমিন বলেন, সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ফাতেমা বেগম (৪০) নামের এক নারীর। তিনি জয়পুরহাট সদরের আমদই ইউনিয়নের মিটনা গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে রোববার রাত ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সায়ফা বিবি (৬৫)। তিনি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বাখড়া গ্রামের ইয়াছিন আলীর স্ত্রী।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন রোগী মারা গেছেন। তাঁরা হলেন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কহিনুর বেগম (৪০) এবং বগুড়া সদরের আবদুল মান্নান (৭০)।

গত এক সপ্তাহে হাসপাতালগুলোতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনই জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বাসিন্দা।

টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের মুখপাত্র আবদুর রহিম বলেন, এখানে ২৪ ঘণ্টায় করোনা ওয়ার্ডে দুজন রোগী মারা গেছেন। তাঁরা হলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার আসাদুল ইসলাম (৬৫) এবং নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শেখ তারেক (৬১)।

এ নিয়ে বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত তিন সপ্তাহে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনই সীমান্তবর্তী জয়পুরহাট (১০) ও নওগাঁ (৫) জেলার বাসিন্দা। অন্যদের মধ্যে দুজন নাটোর এবং একজন করে রাজশাহী ও সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা রয়েছেন। অন্যদিকে গত এক সপ্তাহে হাসপাতালগুলোতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনই জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বাসিন্দা।

৫০ শতাংশ রোগীই সীমান্তবর্তী জেলার

বগুড়ার সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলার তিন হাসপাতালে বর্তমানে ২৬৫ জন রোগী ভর্তি। এর মধ্যে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ১০৭ জন, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৩ জন এবং টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৫ জন রোগী ভর্তি। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ রোগীই জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলা থেকে করোনায় সংক্রমিত হয়ে আসা।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯৩ রোগীর ৫০ শতাংশই ভারত সীমান্তঘেঁষা জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বাসিন্দা।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে রোববার থেকে বগুড়া শহর ও সদর উপজেলায় সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন জারি করা হয়েছে।