default-image

বগুড়ায় কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা শতকে পৌঁছাল। জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের ১১৬ দিনের মাথায় আজ রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪ হাজার ৫০৫।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মুখপাত্র ও চিকিৎসা কর্মকর্তা ফারজানুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। আর সুস্থ হয়েছেন ৬১ জন। এ নিয়ে জেলায় কোভিডমুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯০৬ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় প্রথম কোভিড রোগী শনাক্ত হয় ১ এপ্রিল। দ্বিতীয় রোগী শনাক্ত হয় ১৫ এপ্রিল। ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় ২১ এপ্রিল এক দিনে শনাক্ত হন চারজন। ৯ মে পর্যন্ত জেলায় করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৭। সেদিন পর্যন্ত করোনায় কোনো মৃত্যু ছিল না।

স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০ মে ঈদুল ফিতর সামনে রেখে মার্কেট, বিপণিকেন্দ্র ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিধিনিষেধ তখন ভেঙে পড়ে। আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। প্রথম শনাক্তের ৭৪ দিনের মাথায় ১৪ জুন পর্যন্ত শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪০২। আর মৃত্যু ছিল ১৪। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেদিন সংক্রমণ ঝুঁকির শীর্ষে থাকা শহরের নয়টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ চিহ্নিত করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

বগুড়ায় কোভিড পজিটিভ প্রথম রোগী হিসেবে ২১ মে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সাংসদ ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক কামরুন্নাহার পুতুল। সেই হিসাবে গত ৬৫ দিনে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০–তে পৌঁছাল।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ দুপুর ১২টার দিকে ওয়াহিদুজ্জামান (৪৬) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি নওগাঁর ধামুরহাট উপজেলার জাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা। বগুড়া শহরের চেলোপাড়া এলাকার একজন চক্ষু চিকিৎসকের সহকারী ছিলেন ওয়াহিদুজ্জামান। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাসপাতাল চত্বরে জানাজা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে সকালে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়ে মমতাজ উদ্দিন মণ্ডল নামের একজন ব্যবসায়ী মারা যান। তাঁর বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায়।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন