default-image

ঘন কুয়াশায় ঢাকা শীতের রাত। কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন দুই সহোদর। পথে অজ্ঞাতনামা যানবাহনের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন তাঁরা। যানবাহনটি তাঁদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের প্রাণহীন নিথর দেহ পড়ে থাকে। পরে পথচারীদের নজরে এলে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ গিয়ে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

গতকাল সোমবার রাত পৌনে আটটার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে বগুড়া সদরের সিল্কিবান্ধা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই সহোদর হলেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার দক্ষিণবস্তা (বাঁশতা) গ্রামের আফতাব উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩০) ও মাসুদুর রহমান (২১)।

বড় ভাই আলমগীর মালয়েশিয়াপ্রবাসী। গত বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন। অন্যদিকে ছোট ভাই মাসুদুর রহমান বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি বগুড়া শহরে মেসে থেকে পড়াশোনা করতেন।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণবস্তা গ্রামের তাঁদের প্রতিবেশী স্কুলশিক্ষক নয়ন আহমেদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে আলমগীর হোসেন বগুড়া শহরে কেনাকাটা করতে যান। কেনাকাটা শেষে দেখা হয় ছোট ভাই মাসুদুরের সঙ্গে। মাসুদুরও বড় ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। এরপর ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে বগুড়া শহর থেকে নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে ক্ষেতলাল উপজেলায় বাড়ির দিকে ফিরছিলেন তাঁরা। পথে সিল্কিবান্ধা স্থানে অজ্ঞাতনামা একটি যানবাহন ধাক্কা দিলে তাঁরা ছিটকে পড়ে চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা বলেন, যানবাহন শনাক্ত করা যায়নি। শীতের ঘন কুয়াশার রাতে মোটরসাইকেলের পাশে দুজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে তা ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত দুজন সহোদর। একজন সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন