বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির সাংসদ গোলাম মো. সিরাজের ওপর জেলার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হামলা করেন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। রোববার সকালে বগুড়া শহরের নওয়াববাড়ী সড়কে
বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির সাংসদ গোলাম মো. সিরাজের ওপর জেলার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হামলা করেন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। রোববার সকালে বগুড়া শহরের নওয়াববাড়ী সড়কে সোয়েল রানা

বগুড়ায় শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাংসদ গোলাম মো. সিরাজ ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে। আজ রোববার সকাল নয়টার দিকে শহরের সাতমাথায় শহীদ খোকন পার্কের সামনে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপির সাংসদের বিরুদ্ধে ‘সিরাজ তুই রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ বলে স্লোগান দেন এবং ধাওয়া করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বগুড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন চলছিল রাত থেকেই। সকালে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া শেষে শহীদ খোকন পার্ক চত্বরে অপেক্ষা করছিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীসহ শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসেন সাংসদ ও বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মো. সিরাজ। সাংসদ ছাড়াও জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে আলাদা ফুল দেওয়া শেষে তিনি শহীদ মিনার থেকে নেমে পুলিশ প্রহরায় খোকন পার্কের মূল গেট হয়ে বের হতে যান। এ সময় সাংসদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার, জেলা বিএনপির সদস্য এম আর ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া শেষে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস ও সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে খোকন পার্ক চত্বরে অবস্থান করছিলেন শতাধিক নেতা-কর্মী। বিএনপির সাংসদ শহীদ মিনার থেকে নেমে হেঁটে খোকন পার্ক ত্যাগ করার সময় তাঁকে দেখেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সাংসদ সিরাজকে উদ্দেশ করে ‘সিরাজ তুই রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ ধরনের নানা স্লোগান দেন।

পুলিশ প্রহরায় খোকন পার্ক থেকে বের হয়ে সাংসদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীরা সার্কিট হাউস মোড় হয়ে দলীয় কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে পেছন থেকে ধাওয়া করেন। হামলায় জেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি শামসুল আলম, বিএনপির কর্মী প্রবাল, যুবদলের কর্মী মাসুমসহ কয়েকজন আহত হন।

default-image

হামলার সময় সাংসদের সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আজগর তালুকদার অভিযোগ করেন, কোনো উসকানি ছাড়াই এমন দিনে ছাত্রলীগ বর্বর হামলা চালিয়েছে। তিনি নিজেও ছাত্রলীগের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন দাবি করেন।

বগুড়া সদর আসনের সাংসদ ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মো. সিরাজ বলেন, ‘শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য আমরা আগে থেকেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমাদের সকাল আটটায় শহীদ মিনারে আসতে বলা হয়। কিন্তু সকালে শেরপুরে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার ঘটনায় নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে শহীদ মিনারে উপস্থিত হই আমরা। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ছাত্রলীগের অতি উৎসাহী নেতা-কর্মীরা নিজেদের জাহির করতে এই হামলা চালিয়েছে। তাঁরা নামেই ছাত্ররাজনীতি করেন। কেন শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসেছেন, সেটাই তাঁরা জানেন না।’

সাংসদের ওপর হামলার সময় খোকন পার্ক চত্বরে অবস্থান করছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ কে এম আসাদুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শহীদ মিনারে সাংসদ কেন, যেকেউ-ই ফুল দিতে আসতে পারেন। ছাত্রলীগের আচরণ মোটেও শোভনীয় ছিল না। আমি নিজেও তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি।’

তবে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাসের ভাষ্য, ‘কোনো হামলা বা ধাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে না দিতেই সেখানে সদলবলে ফুল দিতে আসেন বিএনপির সাংসদ এবং তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিতর্কিত ভূমিকার কথা সবারই জানা। এ কারণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে ছাত্রলীগ ফুল দিতে বাধা দেয়নি। ফুল দিয়ে সাংসদ শহীদ মিনার চত্বর ত্যাগ করার সময় উত্তেজিত কর্মীদের কেউ কেউ সাংসদের নামে স্লোগান দেন। বিএনপি-ছাত্রদলও এ সময় উসকানি দিলে কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন। তবে আমরা কর্মীদের শান্ত করে সেখান থেকে নিয়ে আসি।’

ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা বগুড়া সদর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক খোরশেদ আলম বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুল দেওয়া শেষে সাংসদ শহীদ মিনার চত্বর ত্যাগ করার সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দেন। উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রহরায় তাঁকে সদর ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁকে দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন