• হলফনামায় সর্বোচ্চ ১৯টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন ধুনটে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আলিমুদ্দিন হারুন। বেশির ভাগ মামলাই বিস্ফোরক আইনে।

বিজ্ঞাপন
default-image

বগুড়ার কাহালু পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র নাঈমুর রহমান ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে অপহৃত হয়। মুক্তিপণের পাঁচ লাখ টাকা না পেয়ে হত্যার পর নাঈমের লাশ ইটভাটায় পোড়ানো হয়। এ ঘটনার মামলায় আসামি করা হয় ভাটামালিক আবদুল মান্নানসহ ১০ জনকে।

মামলায় আবদুল মান্নানের ছেলে আবু জাকারিয়াসহ অন্য আসামিদের ফাঁসির দণ্ড হলেও তিনি অব্যাহতি পান। আলোচিত সেই ইটভাটামালিক আবদুল মান্নান এবার কাহালু পৌরসভা নির্বাচনের মেয়র পদে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন।

হত্যা মামলা ছাড়াও ইটভাটা ব্যবসায়ী আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরেকটি মামলা হয়। সে মামলায়ও তিনি খালাস পান। আবদুল মান্নান বলেন, হত্যা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মারামারিসহ পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন।

শিবগঞ্জ পৌরসভায় ধানের শীষের প্রার্থী মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনসহ মোট চারটি মামলা বিচারাধীন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তাঁর বিরুদ্ধে এসব মামলা হয়েছে।

এই পৌরসভায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের নামে মারামারির একটি মামলা ছিল। ২০১৬ সালে তিনি খালাস পান।

ধুনটে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী আলিমুদ্দিন হারুন মণ্ডল হলফনামায় তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৯টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। বেশির ভাগ মামলা হয়েছে বিস্ফোরক আইনে। তিনটি আদালতে বিচারাধীন, ১০টিতে অব্যাহতি, ৪টিতে খালাস ও ২টি প্রত্যাহার করা হয়েছে। নৌকার প্রার্থী টি আই এম নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে মারামারির মামলা ছিল দুটি। আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী এ জি এম বাদশাহ হলফনামায় তিনটি মামলা থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনটিতেই তাঁর নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গাবতলীতে বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলামের নামে দুর্নীতিসহ ১৭টি মামলার উল্লেখ আছে। ৭টি বিচারাধীন ও ১০টিতে অব্যাহতি পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

দলটির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলীর নামে নাশকতাসহ আটটি মামলার উল্লেখ আছে হলফনামায়। নৌকার প্রার্থী মোমিনুল হক তিনটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

এই পৌরসভায় খেজুরগাছ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজেদুল আলমের নামে দুটি মামলা বিচারাধীন।

২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর গাবতলী পৌর যুবলীগের সভাপতি তারিকুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন এ টি এম নুরুল আমিন। তিনি গাবতলী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। হলফনামায় তিনি হত্যাসহ তিনটি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। সব কটিই বিচারাধীন।

নন্দীগ্রাম পৌরসভায় বিএনপি–সমর্থিত ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী সুশান্ত কুমার সরকারের নামে দুটি বিচারাধীন মামলা রয়েছে। ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী তিনটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। নৌকার প্রার্থী আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা এক।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন