পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটা পর্যন্ত ২১ ঘণ্টায় যমুনা নদীর ৮ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদীর সারিয়াকান্দি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পাউবোর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল যমুনা নদীর সারিয়াকান্দির মথুরাপাড়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আজ বেলা তিনটায় যমুনা নদীর পানি আরও ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে গেছে। অন্যদিকে যমুনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাঙ্গালী নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

default-image

সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সারিয়াকান্দি পৌরসভার আংশিক অংশ ছাড়াও চরবেষ্টিত ও নদী-তীরবর্তী এলাকার ৭৭ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫৭ হাজার। দুর্গত এলাকায় ১০ হাজার ২৫০ নলকূপ তলিয়ে গেছে। ২ হাজার ৪৬৯ হেক্টর ফসলি জমি বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল হালিম বলেন, যমুনা নদীর পানির ঢলে ২ হাজার ৪৬৯ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে কৃষকের ২ হাজার হেক্টর জমির পাট, ৪৫০ হেক্টর জমির আউশ ধান, ৪ হেক্টর ভুট্টা এবং ১৫ হাজার হেক্টর জমির সবজি এখন পানির নিচে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ জলমগ্ন হওয়ায় ৩১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, যমুনার ঢলে এই ইউনিয়নের প্রায় ১১টি চর প্লাবিত হয়েছে। দুর্গত মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। ২৫০ বসতঘর যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। আশ্রয়হারা কিছু মানুষ সোনাতলা উপজেলার সুজায়েতপুর আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। সেখানে টিউবওয়েল ও টয়লেটের অভাব রয়েছে।

default-image

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন বলেন, তাঁর উপজেলায় যমুনা নদীর তীরবর্তী তেকানি চুকাইনগর, পাকুল্যা এবং মধুপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। এতে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৫ হাজার ২০০ পরিবারের পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা ২০ হাজার ১২৮ জন।

বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, আজ পর্যন্ত তিন উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৪৫ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন