বগুড়ায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ২০ জনের মৃত্যু

করোনাভাইরাসের প্রতীকী ছবি

বগুড়ায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে ২০ জন মারা গেছেন। এই সময়ে ২৩৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ৮১০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৩৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ২৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। গত বছরের ৩ এপ্রিল জেলায় করোনা বিশেষায়িত সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে শাহ আলম নামের এক দিনমজুরের করোনা শনাক্ত হয়। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত ৪৬০ দিনে ৮৫ হাজার ৭২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৪ হাজার ৯৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩২ জনের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিদিনের অনলাইন ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৮ রোগী মারা গেছেন। এর মধ্যে সাতজন হাসপাতালে এবং একজনের বাড়িতে মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল প্রশাসন সেখানে আরও একজন রোগীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে ৮, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে ২ এবং টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে একজন রোগী মারা গেছেন।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্র জানায়, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন তিনজন। তাঁরা হলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দুলাল (৮৫), নওগাঁর মোসলেমা বেগম (৪০) এবং গাইবান্ধার রেহেনা বিবি (৯০)। এ সময়ে সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে জয়পুরহাটের মোর্শেদা বেগম (৪০) ও তবিবর রহমান (৬৮) এবং নওগাঁর রহমান সরদার (৬৩) মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে মারা গেছেন দুজন। তাঁরা হলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আজহার আলী (৫০) এবং জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়ি এলাকার বাবু (৩৫)।

তবে হাসপাতালের মুখপাত্র আবদুর রহিম প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন, আজ মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত আরও এক রোগী মারা গেছেন। তাঁর নাম হোসনে আরা (৭৫)। তিনি শেরপুর উপজেলার স্যান্নালপাড়ার বাসিন্দা।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের ৩০ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত জেলায় করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু ছিল বেশি। এর মধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত ১১ হাজার ৮৫৩ জনের করোনা শনাক্ত ও ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। শুধু এপ্রিলে করোনায় ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই মাসে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪৩৬ জনের। মে মাসে জেলায় ৪৩৮ জনের করোনা শনাক্ত ও ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। জুনে ১ হাজার ৬৮২ জনের করোনা শনাক্ত এবং ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্র বলছে, গত বছরের ২২ মে করোনায় সংক্রমিত হয়ে জেলায় প্রথম মারা যান বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক এবং বগুড়া-জয়পুরহাট সংরক্ষিত আসনের সাবেক সাংসদ কামরুন্নাহার পুতুল। সেই থেকে আজ পর্যন্ত করোনায় ৪৩৬ জন মারা গেছেন। সেই হিসাবে করোনায় প্রতিদিন গড়ে একজনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। এর মধ্যে গত জুন মাসে জেলায় করোনায় সংক্রমিত হয়ে রেকর্ড ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন