default-image

বগুড়ায় সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৬০। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকলেও মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৩২৮। গেল দুই সপ্তাহে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই বেড়েছে।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত পাঁচজন রোগী মারা গেছেন। এর মধ্যে গেল রাত সোয়া দুইটায় মারা গেছেন বাবলী বেগম (৪৫) নামের এক নারী। তিনি বগুড়া শহরের লতিফপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার আহাদ আলীর স্ত্রী।  করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ২৭ ডিসেম্বর তাঁকে শহীদ জিয়াউর রহমান  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। একই দিন হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয় জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা শাহনুরকে (৪০)।

বিজ্ঞাপন

তিনি রোববার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে মারা যান। এ ছাড়া বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকার দেলোয়ার হোসেনকে (৬০) ২০ ডিসেম্বর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান। ২৪ ডিসেম্বর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গজারিয়া এলাকা সুমন মিয়াকে (৩৭)। রোববার বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান। এ ছাড়া ২৬ ডিসেম্বর করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয় কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত শাহজাহান আলীকে (৭০)। তিনিও রোববার মারা যান। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দড়িয়াপুর গ্রামে।

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আগ্রহ নেই। মাস্ক ছাড়াই ইচ্ছেমতো চলাফেরা করছেন। সামাজিক অনুষ্ঠান, জনসমাগম, মেলা, সভা-সমাবেশ সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। ফলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
মোস্তাফিজুর রহমান, বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন

বগুড়ার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আগ্রহ নেই। মাস্ক ছাড়াই ইচ্ছেমতো চলাফেরা করছেন। সামাজিক অনুষ্ঠান, জনসমাগম, মেলা, সভা-সমাবেশ সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। ফলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন