default-image

বগুড়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন করে আরও এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোববার সকাল সাড়ে আটটায় মারা যাওয়া করোনা পজিটিভ শনাক্ত রোগীর নাম কুলসুম আরা (৪০)। তিনি নওগাঁ সদরের ডাকাহার গ্রামের ইমদাদুল হকের স্ত্রী।

এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়াল ২৬৫। ইমদাদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিতে (ডিপিডিসি) চাকরি করেন। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ঢাকাতেই বসবাস করতেন। গত ২৪ মার্চ তাঁর স্ত্রীর শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। নমুনা পরীক্ষায় ২ এপ্রিল তাঁর শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। ইমদাদুল হকের দাবি, রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও শয্যাসংকটে ভর্তি করাতে ব্যর্থ হয়ে শেষে শনিবার রাতে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। পরে সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁর স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।

নতুন করে শনাক্ত ৪৭
এদিকে বগুড়া জেলায় রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ এবং বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের আরটি–পিসিআর ল্যাবরেটরিতে ৩০৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৭ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে—এমনটা জানিয়েছেন বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত জেলায় এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৪৯৪ জনের। হাসপাতালে রোববার পর্যন্ত ভর্তি আছেন ৯৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৬৪ জনের। টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে আর একজনেরও মৃত্যুর তথ্য এখনো আমাদের হাতে পৌঁছায়নি।’

এর আগে গত এক সপ্তাহে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে বাড়ছে রোগী, প্রস্তুতি নেই পর্যাপ্ত
প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। তবে সেই তুলনায় প্রস্তুতির অভাব রয়েছে হাসপাতালে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা রোগীর জন্য এখানে সাধারণ শয্যা বরাদ্দ রয়েছে ৫০টি। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যা রয়েছে আটটি। হাসপাতালে এক সপ্তাহের ব্যবধানে করোনার রোগী বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। হাসপাতালে এখনো কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ নেই। করোনা পরীক্ষার জন্য নেই কোনো আরটি–পিসিআর ল্যাবরেটরি। নেই জিন এক্সপার্ট যন্ত্রও। করোনা রোগীদের ফুসফুস পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে জরুরি ডিজিটাল এক্স–রে যন্ত্র নেই এখানে। নেই সিটি স্ক্যান বা এমআরই যন্ত্র। উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহের জন্য নেই হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিক আমিন কাজল বলেন, হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের কাজ চলছে। তবে করোনা পরীক্ষার কোনো ল্যাবরেটরি বা জিন এক্সপার্ট যন্ত্রও নেই এখানে। করোনার রোগীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি ডিজিটাল এক্স–রে যন্ত্র। হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স–রে, সিটি স্ক্যান ও এমআরই যন্ত্র কিছুই নেই। উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহের জন্য নেই হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ডিজিটাল এক্স–রে, হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা এবং জিন এক্সপার্ট যন্ত্র খুবই জরুরি।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে ৬২টি সাধারণ শয্যা এবং ১৩টি আইসিইউ বরাদ্দ রয়েছে। এখানে উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহের জন্য হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা রয়েছে ১৪টি।

হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগীর সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রোগী বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। তবে যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য এখানে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য ৫০টি সাধারণ শয্যা, ৫টি আইসিইউ এবং ১০টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা বরাদ্দ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন