সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছেন বগুড়া ধুনট উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের আলী হাসান। মহাসড়কের গোলচত্বর এলাকায় যানজটে আটকে থাকা এই যাত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর থেকে গোলচত্বর এলাকা পর্যন্ত যানজটের একই অবস্থা। শুনেছি, মহাসড়কের সাহেবগঞ্জ এলাকায় তীব্র যানজট। এখন ধীরগতিতে গাড়ি চলছে। কখন বাড়িতে ফিরতে পারব কে জানে!’

মহাসড়কের পাঁচলিয়া এলাকা থেকে গাইবান্ধাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের যাত্রী হেলেন রহমান বলেন, ‘ভোররাতে ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে রওনা হয়েছি। টাঙ্গাইলের মহাসড়কে যানজট পাড়ি দিয়ে সিরাজগঞ্জে এসে আবারও যানজটের কবলে পড়েছি। এখন বিকল্প পথে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।’

মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে বলে জানান হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় কিছুক্ষণ আগে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও এখন একটু যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাটিকুমরুল থেকে সাহেবগঞ্জ এলাকা হয়ে চান্দাইকোনা পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট রয়েছে। সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।

ওসি লুৎফর রহমান বলেন, দুপুরে মহাসড়কের পাঁচলিয়া এলাকায় বাস বিকল হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম পারে যানজটের সৃষ্টি হয়। বাসটি দ্রুত সরিয়ে ফেলার পর যানজট এখন অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে।

মহাসড়কের কোথাও ধীরগতিতে যানবাহন চলছে, আবার কোথায় কোথাও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান। তিনি বলেন, হাটিকুমরুল এলাকা থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত কিছুটা যানজট রয়েছে। ওই এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের তত্ত্বাবধানে যানজট নিরসনে কাজ চলছে।

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে যে যেভাবে পারছেন ছুটছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। যে কারণে এ সড়কে যানবাহনের চাপও বেড়েছে অনেক। বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে গাড়ি চলাচলের পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণ পর্যন্ত হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে মোট ৪৩ হাজার ৫৯৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় এ রুটে প্রতিদিন ২১ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন