বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৭৩৪টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল পারাপার হয়েছে ৫ হাজার ২২৭টি, যা পারাপার হওয়া মোট যানবাহনের ১৫ দশমিক ৪৯। টোলসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে আজ (শুক্রবার) আরও বেশি মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে। মোটরসাইকেলের টোল আদায়ের জন্য পূর্ব প্রান্তে (টাঙ্গাইলের দিকে) দুটি পৃথক লেন করা হয়েছে।

আজ বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই মহাসড়কের টাঙ্গাইল শহর বাইপাস থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কে ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলে চেপে ছুটে চলছেন ঈদে ঘরমুখী মানুষ। অনেককে স্ত্রী–সন্তান, বড় ব্যাগসহ ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলে চাপতে দেখা যায়।

টাঙ্গাইল শহর বাইপাসে মোটরসাইকেল আরোহী পুলিশ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সোহাগ বলেন, মহাসড়কে যানজট হতে পারে, এই আশঙ্কায় তিনি ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরকররা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। মাত্র আড়াই ঘণ্টায় তিনি ঢাকার শনির আখড়া থেকে পৌঁছতে পেরেছেন।

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার মোতালেব হোসেন বলেন, গত দুই বছর ঈদে মহাসড়কে আট ঘণ্টা আটকে ছিলেন। এবারও যানজটে পড়ে দুর্ভোগ হতে পারে, এমন শঙ্কায় তিনি স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোহানুর রহমান মোটরসাইকেলে যাত্রাবিরতি করছিলেন কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গাতে। তাঁর ভাষ্য, ঈদ সামনে রেখে বাসের ভাড়া বৃদ্ধি, যানজটে আটকে থাকার আশঙ্কাও থাকে। তাই কিছুটা ঝুঁকি হলেও তিনি মোটরসাইকেলে গাইবান্ধা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

পুরোদমে ঈদযাত্রার কারণে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো যানজট দেখা যায়নি। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, যানবাহনের চাপ বেশি হলে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত দুই লেনের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার রাস্তায় একমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। সেখান দিয়ে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন শুধু চলাচল করবে। অপর দিকে উত্তরবঙ্গ থেকে সেতু পার হয়ে আসা যানবাহন ভূঞাপুর হয়ে বিকল্প সড়ক দিয়ে এলেঙ্গা পর্যন্ত চলবে।

বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নুর ই আলম মিনা আজ সকালে মহাসড়ক পরিদর্শনে আসেন। কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানজট হয়নি। আশা করা যাচ্ছে, অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় এবার স্বস্তিতে মানুষ বাড়ি ফিরতে পারবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন