বটগাছে ঝুলছে লাশ, তিন ঘণ্টায়ও নামায়নি পুলিশ

ব্রাহ্মণবড়িয়ার সরাইলে কবরস্থানের গাছে ঝুলন্ত লাশ দেখতে ভিড় করেছে কয়েক শ নারী-পুরুষ ও শিশু। ছবিটি সোমবার বেলা ১১টায় তোলা
ছবি: প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নির্জন একটি কবরস্থানে বটগাছে এক যুবকের লাশ ঝুলছে। ঝুলন্ত লাশ দেখতে ভিড় করেছে কয়েক শ নারী-পুরুষ ও শিশু। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর তিন ঘণ্টা পেরোলেও লাশ নামাচ্ছে না পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, ওই যুবকের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা এলে লাশ নামানো হবে।

আজ সোমবার সকাল ছয়টার দিকে উপজেলা সদরের উত্তর কুট্টাপাড়া জাঙ্গাল নামের কবরস্থানে লাশটিকে ঝুলতে দেখেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) ফোন করে পুলিশকে জানান। সকাল আটটার দিকে সেখানে সরাইল থানা-পুলিশের একটি দল পৌঁছায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা ১১টা) লাশটি সেখানে ঝুলছিল।

মারা যাওয়া ওই যুবকের নাম সোহরাব হোসেন (৩০)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রসুল্লাবাদ ইউনিয়নের কালঘরা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। লাশের নিচে একটি ব্যাগে কাগজপত্র দেখে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এরপর তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সোহরাবের স্কুলপড়ুয়া ছোট বোন জয়া আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, গত শুক্রবার দুপুরে সোহরাব ব্যবসার কাজে চট্টগ্রামের যাবে বলে বের হয়ে যান। শুক্রবার বিকেল থেকে তাঁর সঙ্গে আর কারও যোগাযোগ ছিল না। তাঁর মুঠোফোনটি শুক্রবার বিকেল থেকে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। তিনি জানান, তাঁর ভাই দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের ছয় মাস পার স্ত্রী চলে যান। তিনি বেকারির পণ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

লাশ উদ্ধারে বিলম্বের বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বজনদের সামনে নামালে সুবিধাটা হচ্ছে, সন্দেহ থাকে না। স্বচ্ছতার জন্যই আমরা চাচ্ছিলাম স্বজনদের সামনে লাশটি নামাতে। এটি একটি বীভৎস দৃশ্য, আমি এখন যাচ্ছি, দেখি কী করা যায়। স্বজনদের আসতে দেরি হলে আমি এখনই লাশ নামিয়ে ফেলব।’