মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মধুসুদন রায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তাঁরা নির্যাতনের শিকার ওই মা-মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পরের দিন ৪ মে সন্ধ্যায় উপজেলার এক তরুণী (২১) ব্যাটারিচালিত ভ্যানে বদরগঞ্জ উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। বালুয়াপাড়া গ্রামের চার যুবক ওই তরুণীর পথ আটকে ভ্যান থেকে নামিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ওই তরুণীর চিৎকারে ওই যুবকেরা তাঁকে ‘চরিত্রহীন’ অপবাদ দিয়ে গ্রামের একটি আমগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। এ সময় ওই ভ্যানে থাকা অপরিচিত এক যাত্রীকেও বাঁধা হয়। প্রচারণা চালানো হয়, ওই তরুণী অপরিচিত যাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের জন্য উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। এ অভিযোগে তাঁরা ওই তরুণীকে অমানবিক নির্যাতন শুরু করেন। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন ওই তরুণীর মা। তখন তাঁকেও (মা) গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এরপর তরুণীর বাবা সেখানে গেলে তাঁকেও লাঠিপেটা করা হয়। ওই যুবকদের সঙ্গে নির্যাতনে অংশ নেন গ্রাম পুলিশের সদস্য জান্নাতুলও।

খবর পেয়ে ওই রাতেই ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহম্মেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী তরুণী ও তাঁর মা-বাবাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ ঘটনায় ৫ মে গ্রাম পুলিশের সদস্যসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বদরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ওই তরুণীর বাবা। ঘটনার চার দিন পর গতকাল রাতে পুলিশ অভিযোগটি থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন