default-image

মৌলভীবাজারে বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের জায়গায় পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এ নিয়ে বন বিভাগ ও মৌলভীবাজার পৌরসভার মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। বন বিভাগ মৌলভীবাজার স্টেডিয়াম-সংলগ্ন বর্ষিজোড়া ইকোপার্কের সংরক্ষিত বনের জায়গায় ময়লা-বর্জ্য না ফেলতে লিখিত আপত্তি দিয়েছে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং মৌলভীবাজার পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌর কর্তৃপক্ষ এত দিন শহরের বাইরে জগন্নাথপুরের খাইঞ্জার হাওর এলাকায় বর্জ্য ফেলে আসছিল। সেখানে এখন উন্নয়নকাজ চলছে। ৪ এপ্রিল থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ মৌলভীবাজার স্টেডিয়াম-সংলগ্ন বর্ষিজোড়া ইকোপার্কের সংরক্ষিত বনের নিচু ও খালি জায়গায় শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার বিষয়টি বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয়ের নজরে আসার পর এই স্থানে বর্জ্য না ফেলতে বিভাগ থেকে পৌরসভাকে আপত্তি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়রকে লিখিত চিঠিতে বর্ষিজোড়া ইকোপার্কের সংরক্ষিত বনের জায়গায় ময়লা-বর্জ্য না ফেলা ও গাড়ি যাওয়ার জন্য রাস্তা তৈরি বন্ধ করতে অনুরোধ করেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মৌলভীবাজার পৌরসভা বন বিভাগের জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। বিষয়টি জানার পর তিনি (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে ময়লা-আবর্জনা ফেলার দৃশ্য ও গাড়ি যাওয়ার জন্য রাস্তা তৈরির আলামত দেখতে পান।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বর্ষিজোড়া ইকোপার্কের সংরক্ষিত বন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে এলাকার পরিবেশ দূষিত হবে। মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যাবে। দুর্গন্ধে পাশের এলাকায় মানুষের বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়বে। বর্জ্য খেয়ে বন্য প্রাণীর মৃত্যুর আশঙ্কা আছে। এ ছাড়া এখানে ফেলা প্লাস্টিক ও পলিথিন পচবে না। চিঠিতে এখানে ফেলা ময়লা-আবর্জনা অবিলম্বে অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য পৌরসভাকে অনুরোধ করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বর্জ্য ফেলে একটি ট্রাক সেখান থেকে বেরিয়ে আসছে। এক্সকাভেটর দিয়ে গাড়ি যাওয়ার জন্য রাস্তা এবং রাস্তার পাশ দিয়ে ময়লাযুক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ার জন্য একটি নালা তৈরি করা হচ্ছে। খালি জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে। কিছু আবর্জনা পোড়ানো হচ্ছে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী চিঠি দেওয়ার বিষয় নিশ্চিত করে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিঠি দেওয়ার পরও ময়লা ফেলা ও রাস্তার কাজ বন্ধ হয়নি। আজও (গতকাল বৃহস্পতিবার) ময়লা ফেলা হচ্ছে। কাজ করা হচ্ছে। এটা তো রাষ্ট্রের সম্পত্তি। উনি অন্যের জায়গায় ময়লা ফেলবেন কেন।’

এ বিষয়ে মেয়র ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ডাম্পিং স্টেশনের সম্পূর্ণ জায়গা নিয়ে কাজ চলছে। আগামী ছয় মাস ওখানে ময়লা ফেলা যাবে না। ময়লা ফেলার আর বিকল্প কোনো জায়গা নেই। খালি জায়গা দেখে ময়লা ফেলছি। এখানে বাসাবাড়িও নাই। পাবলিকের জায়গায় তো ময়লা ফেলা যাবে না। এখানে না ফেললে রাস্তার পাশে ময়লা ফেলতে হবে। দুজন কাউন্সিলর ময়লা ফেলার বিষয়টি ডিএফও সাহেবকে বলেছেন।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন