কীভাবে খাল দখল হলো

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রবহমান খালকে নাল জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ স্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়েছেন। আবার কেউ একসনা ডিসিআর নিয়ে অস্থায়ীভাবে ভোগদখল করছেন। স্থায়ী-অস্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়ে দখলদারেরা খাল ভরাট করে ফেলেছেন। ভরাট করা অংশে করা হয়েছে বাড়িঘর, পুকুর ও মাছের ঘের। এই কাজে স্থানীয় ভূমি অফিসের অসাধু কর্মীদের সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে।

কলাপাড়া পৌরসভার চিংগড়িয়া এলাকার বল্লভ কর্মকার, টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের ইসমাইল হোসেন আকন, মাহবুব তালুকদার, মো. মরতুজা হাওলাদার, আবুল চৌকিদার, কাজল তালুকদার প্রমুখ খাল দখলের সঙ্গে জড়িত। আবার কয়েকজন খালের জমি বন্দোবস্ত নিয়ে আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ

চিংগড়িয়া এলাকার বাদল চন্দ্র হাওলাদার বলেন, ‘বর্ষার সময় ৩-৪ ফুট পানি হয়। পুরো গ্রাম তহন পানিতে ভাসতে থাহে। বাড়ির উডান, রান্নার চুলা পর্যন্ত তলাইয়া যায়। কোথাও নাইম্যা যে যামু, হেই জায়গাও থাহে না। আমরা এমন দুরবস্থা থেইক্যা রক্ষা পাইতে চাই।’

একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক পরিমল কুমার দত্ত বলেন, ‘খাল দখল করে যে যার মতো ব্যবহার করছে। বর্ষ মৌসুমে ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। বর্ষার পানি নামতে না পাড়ায় তখন পানিবাহিত রোগ, মশা-মাছিতে পুরো জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।’

চিংগড়িয়া এলাকার উত্তম দাস অভিযোগ করেন, প্রবহমান চিংগড়িয়া খালকে নাল জমি দেখিয়ে স্থায়ী-অস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ভূমি অফিসের সহায়তায় এ কাজ করেছে দখলদার চক্র।

দখলদারদের ভাষ্য

বল্লভ কর্মকার বলেন, ‘আসলে ওই জায়গায় অনেক আগে খাল ছিল। ভরাট হয়ে যাওয়ায় খালের সে জায়গা অন্যরা বন্দোবস্ত নেয়। আমি ক্রয়সূত্রে জমি কিনে সেখানে বাড়িঘর করে, পুকুর করে বসবাস করছি। এখানে আমার কোনো দোষ নেই।’

পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের মরতুজা হাওলাদারের বক্তব্য জানার জন্য চেষ্টা করা হয়েছে একাধিকবার। তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁর ছোট ভাই মো. আজগর আলী এ বিষয়ে বলেন, ‘খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার পর আমার ভাই ১ একর ৫০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নিয়েছে। এরপর সে ওই জমিতে বাড়িঘর করে, গাছপালা লাগিয়ে বসবাস করছে। আমরা অন্যায়ভাবে খাল দখল করিনি।’

মরতুজা হাওলাদারের পাশে খালের একটি বড় অংশ দখল করে তাতে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ শুরু ইসমাইল হোসেন আকন নামের এক ব্যক্তি। তিনি মারা গেছেন। তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমরা এক একর জমির ওপর বাড়ি করেছি। তাতে ৩৬ শতাংশ খালের জমি পড়েছে। জনস্বার্থে এ জমি ছেড়ে দিতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

খাল উদ্ধারে স্থানীয় তৎপরতা

নাগরিক উদ্যোগ কলাপাড়া ও কৃষক সমিতি নামে স্থানীয় মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠন জিন খালসহ উপজেলার বিভিন্ন অংশের খাল উদ্ধার করতে একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। নাগরিক উদ্যোগ কলাপাড়ার আহ্বায়ক নাসির তালুকদার বলেন, ‘আমরা উপজেলার সব নদী-খাল-জলাশয় মুক্ত করা, শ্রেণি পরিবর্তন করে দেওয়া স্থায়ী-অস্থায়ী বন্দোবস্ত বাতিল করা, খাল উদ্ধার করার পর পুনঃখনন করে পানিপ্রবাহ সচল করার দাবি জানিয়েছি।’

ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, চিংগড়িয়া খালের কবি নজরুল ইসলাম সড়কের একটি অংশ ৬ এপ্রিল অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানকার পাঁচটি বাঁধ কেটে দিয়ে পানিপ্রবাহ সচল করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন