বগুড়ায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের মানববন্ধন ও সমাবেশ

বন্ধ নয়, পাটকল আধুনিকায়নের দাবি

রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের মানববন্ধন ও সমাবেশ। বগুড়া, ১৩ সেপ্টেম্বর
রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের মানববন্ধন ও সমাবেশ। বগুড়া, ১৩ সেপ্টেম্বরপ্রথম আলো
বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ২৫টি পাটকল বন্ধের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

জোটের বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ রোববার বেলা ১১টায় শহরের সাতমাথায় এই মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সমাবেশ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলা শাখার সমন্বয়ক সিপিবি জেলা সভাপতি কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারি পাটকল বন্ধ হলে ৫০ হাজার পাটকল শ্রমিকের সঙ্গে ৪০ লাখ পাটচাষি ছাড়াও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পঙ্গু হবে জাতীয় অর্থনীতি। কারণ, পাটকলের মাধ্যমেই দেশে স্থায়ী শিল্পের ভিত্তি রচনা হয়েছিল। পাটকলের কাঁচামাল দেশের কৃষকেরা উৎপাদন করেন। পাট থেকে তৈরি পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। এর সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতি জড়িত। সরকারি পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত হবে আত্মঘাতী। শিল্প ও শ্রমিক-কৃষকের স্বার্থে সরকারি পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। লিজ প্রথায় নয়, আধুনিকায়ন করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পাটকল চালাতে হবে। বিজেএমসির মাথাভারী প্রশাসনে কর্মরতদের প্রত্যাহার করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

পাটকল লোকসানের জন্য সরকারের ভুল নীতি, দুর্নীতি আর লুটপাট দায় উল্লেখ করে এই নেতা বলেন, এসব বন্ধ করতে হবে। শ্রমিকদের ছয় সপ্তাহের হাজিরা বেতন দিতে হবে। উৎসব বোনাসসহ সব বকেয়া অবিলম্বে শোধ করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব পাটকলে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাসদের জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারিতে গোটা বিশ্ব যখন স্থবির, মানুষের জীবন ও জীবিকা যখন বিপন্নপ্রায়, ঠিক সেই সময় লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় খাতের ২৫টি পাটকল বন্ধের মাধ্যমে হাজারো শ্রমিকদের পথে বসানোর সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে সরকার। কিন্তু লোকসানের কারণ চিহ্নিত ও তা সমাধান না করে স্বেচ্ছাচারী কায়দায় রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত গণবিরোধী। এ সিদ্ধান্ত পাট খাতকে ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিপিবি বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ বলেন, বিশ্বজুড়ে পাটজাত পণ্যের চাহিদা ও সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। পাটের পণ্য আন্তর্জাতিকভাবে দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। অথচ এমন সময় পাটকল বন্ধের মাধ্যমে দেশের পাট খাতকে দেশি-বিদেশি পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে সরকার।

বাসদ জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফুজ্জামান টুটুল বলেন, রাষ্ট্রীয় পাটকল লিজের বদলে আধুনিকায়ন করে পাটশিল্প ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিপিবি জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সন্তোষ কুমার পাল বলেন, চাল, পেঁয়াজ, আদা, সবজিসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষের হাঁসফাঁস উঠেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যয় সংকুলানে নাভিশ্বাস উঠেছে। সরকার নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে এখন অধিকাংশ নিত্যপণ্য। বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে সরকার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষা করছে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাসদ বগুড়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলন বগুড়া জেলা কমিটির সমন্বয়কারী কমরেড আবদুর রশিদ, বাসদ জেলা সদস্য মাসুদ পারভেজ, ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মণ প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন