বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চালকলটির ব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, দুই বছর ধরে চালকলে চাল উৎপাদন হচ্ছে না। বন্ধ থাকার পরও সরকারি খাদ্যগুদামে এই চালকল থেকে কীভাবে বোরো চাল সরবরাহ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মালিকের ব্যাপার।

জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার বিপ্রবেলঘরিয়া গ্রামে এম খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেড নামের একটি চালকল নির্মাণ করা হচ্ছে। উৎপাদনে যাওয়ার আগেই ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ১০৪ দশমিক ১৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট এই চালকলে গিয়ে চাল উৎপাদনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ভেতরে পাটখড়ি শুকানো হচ্ছিল। চালকলের মালিক মানিকুজ্জামান খান জানান, এর নির্মাণকাজ চলছে। আগামী মৌসুমে চালকলটি উৎপাদনে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে চালের বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মারা যান নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া এলাকার বাসিন্দা এ টি এম জালাল। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় মৃত্যুর আট বছর আগেই তিনি তাঁর মালিকানাধীন ছিন্নমূল চালকলটি বন্ধ করে দেন। অথচ এখনো প্রতিবছর তাঁর চালকলের নামে খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমেও চালকলটি সরকারের সঙ্গে চাল সরবরাহের চুক্তি সম্পাদন করে। মৃত ব্যক্তির নাম স্বাক্ষর করে এবারও চালকলের নামে ১৬ দশমিক ৫৬ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করা হয়েছে।

* সরকার জেলার ৪১১টি চালকলের মালিকের কাছ থেকে ২৪ হাজার মেট্রিক টন বোরো চাল কিনেছে। * এবার বাজারে বোরো চালের দাম ছিল প্রতি কেজি ৩৬-৩৮ টাকা। সরকার কিনেছে ৪০ টাকা দরে।

বন্ধ থাকা অন্য চালকলগুলোর মধ্যে সদর উপজেলার উত্তরা চালকলের নামে সরবরাহ করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৬৭০ মেট্রিক টন, শরীফ চালকল (১৩ দশমিক ৮৯০ মেট্রিক টন), সালমান চালকল (১৫ মেট্রিক টন), হাবিবুল্লাহ চালকল (১৫ দশমিক ৮১০ মেট্রিক টন), আলী চালকল (১৬ দশমিক ৫৬০ মেট্রিক টন), ওসমান চালকল (১৬ দশমিক ৫৬০ মেট্রিক টন), বিশ্বাস চালকল (১৪ দশমিক ৬৭০ মেট্রিক টন), মন্তব চালকল (৬ দশমিক ১৮০ মেট্রিক টন), সাহাদত চালকল (১৪ দশমিক ৬৭০ মেট্রিক টন), উত্তরবঙ্গ চালকল (১৬ দশমিক ৫৬০ মেট্রিক টন), সুরুজ মহল চালকল (১৪ দশমিক ৬৭০ মেট্রিক টন), দেব চালকল (৮ দশমিক ৮৫০ মেট্রিক টন) এবং সিংড়া উপজেলার টেকনো অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড (৩৩২ দশমিক ৫২০ মেট্রিক টন), রিশাদ চালকল (১৬ দশমিক ৫৬০ মেট্রিক টন), রূপালী চালকল (১১ দশমিক ৫৮০ মেট্রিক টন), আমজাদ চালকল (১৫ দশমিক ৩৯০ মেট্রিক টন), শাপলা চালকল (১৬ দশমিক ৫৬০ মেট্রিক টন), ভান্ডারী চালকল (১৬ দশমিক ৫৬০ মেট্রিক টন) ও মিষ্টি চালকলের নামে ১৬ দশমিক ৫৬০ মেট্রিক টনসহ মোট ৭১৪ দশমিক ৬২ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করা হয়েছে।

জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জানান, যখনই বাজারের তুলনায় সরকার বেশি দামে চাল কেনে, তখন একটি বিশেষ মহল অস্তিত্বহীন চালকলের নামে চাল সরবরাহ করে লাভবান হয়। অথচ বাজারে চালের দাম বেশি থাকলে এ তৎপরতা একেবারেই থাকে না। তিনি আরও জানান, এবার মৌসুমের শুরুতে বাজারে বোরো চালের দাম ছিল প্রতি কেজি ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা। তবে সরকার কিনেছে প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রবীন্দ্রলাল চাকমা বলেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চালকলের সক্ষমতা যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকা খাদ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তালিকা অনুমোদন হয়ে আসার পর স্থানীয় খাদ্যগুদামের মাধ্যমে চালকলের মালিকদের কাছ থেকে চাল কেনা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কেউ অনিয়ম করেছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। ভবিষ্যতে তিনি নিজে যাচাই-বাছাই করার আশ্বাস দেন।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, চাল সংগ্রহে অনিয়ম থাকলে সে ব্যাপারে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরকে জানাবেন। তাঁরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন