default-image

এক মাস ধরে পানিতে ডুবে আছেন বিলকিস বেগম (৩৮)। ঠিকমতো খাবারই জোগাড় করতে পারেননি। এরই মধ্যে চলে এসেছে ঈদ। শুক্রবার রাত থেকে চিন্তায় ছিলেন, ঈদের দিন কী খাবেন; সন্তানদের মুখেই বা কী তুলে দেবেন।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই দুশ্চিন্তার অবসান হয় বিলকিসের। ফরিদপুর সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গী গ্রামের এই গৃহবধূ শনিবার সকালেই খাবার পেয়ে যান। সেনাসদস্যরা তাঁর হাতে ‘ঈদের খাবার’ তুলে দিয়ে আসেন।

বিলকিসের মতো মুন্সীডাঙ্গী গ্রামের বন্যাকবলিত অন্যরাও খাবার পেয়েছেন। প্রায় এক মাস ধরে বন্যার পানিতে ডুবে আছে এই এলাকা। নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনো উপায় নেই। অধিকাংশ বাসিন্দাই কৃষিজীবী। কিন্তু পানিতে জমি, ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় কোনো কাজ নেই। পরিবার নিয়ে একপ্রকার অভুক্তই থাকছে এই এলাকার বাসিন্দারা। এর মধ্যেই শনিবার আসে ঈদুল আজহা। সকালে তাঁদের কাছে খুশির বার্তা নিয়ে আসে সেনাবাহিনীর একটি দল।

সেনাসদস্যরা বন্যাদুর্গত মানুষের হাতে ঈদের খাবার হিসেবে তুলে দেন প্যাকেটজাত রান্না করা খাবার। তাতে ছিল গরুর মাংসের তেহারি ও ডিম ভুনা। ফরিদপুর সদর উপজেলার ধলার মোড় এলাকা থেকে ট্রলারে করে খাবার নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মুন্সীডাঙ্গী গ্রামে। সেখানকার বন্যাদুর্গত শিশু, নারী, যুবক ও বৃদ্ধ—সবার হাতে খাবারগুলো তুলে দেওয়া হয়।

খাবার পেয়ে তরুণী সালেহা বেগম (১৮) বলেন, ‘বন্যার পানিতে ডুইবা আছি। কোনো দিন খাবার জুটেছে, কোনো দিন জোটে নাই। আজ অন্তত ঈদের দিনে একবেলা ভালো খাবার খেতে পারছি।’ একই গ্রামের মোশাররফ ভূঁইয়া (৪২) বলেন, ‘চারদিকে বন্যার পানি। পেটে খাবার নাই। এই অবস্থায় এসেছে ঈদ। বাচ্চাদের মুখে ঈদের দিন কী তুলে দেব, তা নিয়া চিন্তায় ছিলাম। সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের সে চিন্তা দূর করছে। আমার মন আনন্দে ভরে গেছে।’

খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সেনাবাহিনীর ৮১ পদাতিক ব্রিগেডের অধীনে জাজিরা ক্যাম্পের ২৮ বিআইআরের ক্যাপ্টেন সাকিফ মুবাশ্বির। তিনি বলেন, সেনাপ্রধানের নির্দেশে এই খাবার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জাজিরা ক্যাম্প ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. পারভেজ। একই কর্মসূচির আওতায় বন্যাদুর্গত ফরিদপুর ও মাদারীপুরের ৫০০ মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0