সাতক্ষীরার আশাশুনি
বন্যার্তদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
ঘরবাড়ি তলিয়ে থাকায় আশাশুনির প্রতাপনগরের চার গ্রামের মানুষ অন্যত্র ছিলেন। এখন পানি সরে যাওয়ায় তাঁরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।
বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন অন্যত্র। দীর্ঘদিন ছিলেন বেকার। মানুষের সহায়তা নিয়ে অর্ধাহার–অনাহারে দিন কাটিয়েছেন। পাউবো ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কার করায় তাঁরা দীর্ঘ ছয় মাস পর বাড়ি ফিরেছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বসতভিটায় আবার নতুন করে জীবন শুরুর চেষ্টা করছেন তাঁরা। সহায়–সম্বল যা ছিল তা দিয়ে ঘর তৈরি করছেন। কেউ কেউ মাছ চাষ শুরু করেছেন। কেউবা জমিতে ফসল ফলানোর চেষ্টা করছেন। এভাবে তাঁরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
দারিদ্র্য আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে চলা এই মানুষেরা আশাশুনি প্রতাপনগর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। ভালোভাবে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য তাঁরা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডে সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের ১৮ গ্রাম তলিয়ে যায়। ৯ মাস পরে বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়। কিন্তু তিন মাস যেতে না যেতে ২০২১ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আঘাত হানে। ফলে এ ইউনিয়নের পাউবোর বেড়িবাঁধ আট স্থানে ভেঙে আবার ১৬ গ্রাম তলিয়ে যায়। এর মধ্যে চার মাস আগে সাতটি স্থানের বাঁধ সংস্কার করা হলেও বন্যতলা, প্রতাপনগর, কুড়িকাউনিয়া ও মান্দারবাড়িয়া এলাকার খোলপেটুয়া নদীর পানি ঢোকা বন্ধ হয়নি। গত ২৭ নভেম্বর বাঁধ সংস্কার করায় ওই চার গ্রামে পানি ঢোকা বন্ধ হয়েছে। এ কারণে এসব গ্রামের মানুষ আবার বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে।
প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও লোকালয়ে খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের পানি ঢোকা বন্ধ করতে পারায় মানুষ তাদের ঠিকানায় ফিরতে শুরু করেছে।