বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘১২ সেপ্টেম্বর সব বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এরই মধ্যে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পদ্মা, মেঘনা ও কীর্তিনাশা নদীর তীরবর্তী কিছু বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। কোনো বিদ্যালয়ের মাঠ ও রাস্তা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আবার কোনো বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকেছে। আর দুদিন পরই বিদ্যালয় খোলা হবে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ওই সব বিদ্যালয় খোলা হবে। আপাতত ১২ সেপ্টেম্বর বন্যাকবলিত বিদ্যালয়গুলো খোলা যাচ্ছে না।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, গত ১৩ আগস্ট থেকে পদ্মা নদীর নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এরপর প্রতিদিনই পদ্মায় পানি বাড়ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সুরেশ্বর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

পানি বেড় নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জাজিরার নাওডোবা, পূর্ব নাওডোবা, পালেরচর, কুণ্ডেরচর, নড়িয়ার চরাত্রা, মোক্তারেরচর, নওপাড়া, কেদারপুর, নড়িয়া পৌরসভা, ভেদরগঞ্জের কাচিকাটা, তারাবনিয়া ও চরসেন্সেস ইউনিয়নের গ্রামগুলোর অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গ্রামগুলোর ৮৫টি প্রাথমিক ও ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ঢুকেছে। এসব বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, মাঠ ও রাস্তায় পানি উঠেছে।

নড়িয়ার ঈশ্বরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর ধরে বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ। বিদ্যালয় খোলার খবরে স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু বন্যায় বিদ্যালয়ের মাঠ ও রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। মেঝেতে পানি উঠেছে। এখন কবে পাঠদান চালু করতে পারব, বুঝতে পারছি না।’

জাজিরার কুণ্ডেরচর সমির উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যালয়টি পদ্মার ভাঙনের মুখে আছে। জিও ব্যাগ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হচ্ছে। তার মধ্যে বন্যার পানিতে মাঠ নিমজ্জিত। এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এখন বিদ্যালয় খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেই অঞ্চলের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বন্যার পানি প্রবেশ করে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যালয় পাঠদান শুরু হবে। বন্যার পানি নামতে দেরি হলে ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বিকল্প কোনোভাবে নেওয়া যায় কি না, তা শিক্ষা বিভাগ চেষ্টা করবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন