স্বপ্নের ফসল রক্ষা করতে গত তিন দিন ধরে তিন গ্রামের শতাধিক মানুষ ও পরিবার–পরিজন নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাতির দলটি বন বিভাগের গোপালপুর বিট কার্যালয়ে পেছনের জঙ্গলে অবস্থা করে। বিকেলে ফেকামারী সীমান্তের জঙ্গলে চলে যায়।

বন বিভাগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা হলেই খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে ৩০-৩৫টি বন্য হাতির একটি দল। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই ভারত অংশের জঙ্গল থেকে পানিহাতা, ফেকামারী, মায়াঘাসিসহ আশপাশের এলাকায় নেমে আসে হাতির দলটি। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তাণ্ডব চালায় হাতির দলটি। এদিকে নিজেদের জমির ফসল রক্ষা করতে ঢাকঢোল বাজিয়ে, হইহুল্লোড় করে, পটকা ফুটিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। দল বেঁধে মধ্যরাত পর্যন্ত হাতির দল তাড়াতে ও ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করেন তাঁরা।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পানিহাটা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক হিলসন ডিওয়ের এক একর, জয়নাল আবেদীনের এক একর, মোতালেব হোসেনের ৫০ শতক ও হজরত আলীর ৫০ শতক জমির ফসল খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে ফেলে হাতির দল। গত বুধবার সন্ধ্যার পর পানিহাটা গ্রামের বিজারকুবি, যোসেফ মারাক, বার্নাড মারাকসহ আরও তিন–চারজন প্রান্তি কৃষকের আরও চার একর জমির ফসল বন্য হাতির দল নষ্ট করে ফেলেছে।

প্রান্তিক কৃষক জহিরুল হক বলেন, হাতি তাড়াতে মশাল জ্বালাতে হয়। হাতি আলো দেখলে কিছুটা ভয় পায়। কিন্তু পর্যাপ্ত কোনো টর্চলাইট নেই। নিজ উদ্যোগে পাহাড়ি গ্রামবাসী কেরোসিন দিয়ে মশাল জ্বালান। বন বিভাগ ও সরকারিভাবে গ্রামবাসীরে টর্চলাইট দেওয়া হলে তাঁরা সহজে হাতি তাড়াতে পারতেন।

বন বিভাগের গোপালপুর বিট কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, এ পর্যন্ত চার–পাঁচ একর জমির ফসল হাতির দলটি নষ্ট করেছে। ফসল রক্ষায় গ্রামবাসীর সঙ্গে বন বিভাগের লোকজনকেও রাত জেগে পাহাড়া দিতে হচ্ছে।

মধুটিলা ইকোপার্কের রেঞ্জার আবদুল করিম বলেন, ৩ দিন ধরে ৩০-৩৫টি হাতির দলটি সন্ধ্যার পরপর পানিহাটা ও ফেকামারী গ্রামের ফসলি জমিতে নেমে আসছে। প্রতিরোধের পরও ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বন বিভাগের কাছে আবেদন করতে বলা হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে কৃষকেরা তাঁদের ক্ষতিপূরণ পেয়ে যাবেন। তবে কেউ যেন বন্য হাতির ক্ষতি করতে না পারেন, তার জন্য বন বিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন