default-image

জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বরগুনায় শাবলের আঘাতে মো. আয়নাল মীর (৭০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়নাল মীর বরগুনা সদর ইউনিয়নের হেউলিবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় নিহতের প্রথম পক্ষের ছোট ছেলে জামাল মীরকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আয়নাল মীরের দুজন স্ত্রী। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর পাঁচ সন্তান এবং দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর দুই সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁর সন্তানদের সঙ্গেই বসবাস করতেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানেরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে বছরখানেক আগে প্রথম পক্ষের সন্তানেরা আয়নাল মীরকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর জমিজমা ভাগাভাগি নিয়ে প্রথম পক্ষের সন্তানেরা আলোচনা শুরু করলে বাবার সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। জমিজমাসংক্রান্ত এ বিরোধ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছোট ছেলে জামালের সঙ্গে আজ বিকেলে বাবা আয়নালের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় জামাল উত্তেজিত হয়ে তাঁর বাবার মাথায় লোহার শাবল দিয়ে পরপর দুবার আঘাত করেন। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বৃদ্ধ আয়নাল মীর। পরে স্বজনেরা তাঁকে বরগুনা সদর হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জমিজমাসংক্রান্ত এ বিরোধ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছোট ছেলে জামালের সঙ্গে আজ বিকেলে বাবা আয়নালের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় জামাল উত্তেজিত হয়ে তাঁর বাবার মাথায় লোহার শাবল দিয়ে পরপর দুবার আঘাত করেন।
বিজ্ঞাপন

আটক জামাল মীর বলেন, বিভিন্ন সময়ে বাবার কারণে তাঁরা নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হয়েছেন। তাঁর কাছে বাবার ২৮ শতাংশ জমি বিক্রি করার কথা। সে জমি তিনি (আয়নাল) বড় ভাইয়ের কাছে বিক্রি করেছেন। এ নিয়ে আজ বিকেলেও বাগ্‌বিতণ্ডা হলে তিনি তাঁকে (জামাল) মারতে তেড়ে আসেন। এ সময় নিজেকে বাঁচাতে তাঁকে আঘাত করেন।

বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্ত ছেলে জামাল মীরকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত আয়নাল মীরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন