বিজ্ঞাপন

পাউবোর বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আগেই বরগুনায় ২৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে বরগুনার প্রধান তিনটি নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে সাত থেকে আট ফুট বেশি উচ্চতার জোয়ার প্রবাহিত হওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। এতে লোকালয়ে পানি ঢুকে কয়েক শত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঝড়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হবে। এ বাঁধ আমরা অচিরেই সংস্কার করব।’

default-image

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান, ‘ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে ইতিমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। এ ছাড়া দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা মজুত আছে। ইতিমধ্যেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজও শুরু করেছি।’

বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের লতাকাটা এলাকার বাসিন্দা সরোয়ার বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতের জোয়ারের চাপে আমাদের এলাকার বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয় পানি প্রবেশ করে। আর বুধবার সকালে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে আমাদের এলাকার পাঁচ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পুকুর ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া তলিয়ে গেছে আউশ ধানের বীজতলাসহ বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ।’

default-image

একই এলাকার নুরজাহান বেগম বলেন, ‘রাতে ঝড়ে ঘরের সব মালামাল ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। রাতে বাড়ি থেকে বের হয়েছি, এরপর এখন পর্যন্ত আর ঘরে প্রবেশ করতে পারিনি। সকালের জোয়ারের পানি ছিল রাতের চেয়েও বেশি। গত পাঁচ বছরে আমাদের এখানে বেড়িবাঁধের ওপর এক ইঞ্চি মাটি কেউ দেয়নি। এ জন্যই আমাদের এই দুর্ভোগ।’ ডালভাঙার আরেক গৃহবধূ জায়েদা বলেন, ‘হুনছি, বইন্না এহনো আয় নায়। হেইতেই এত পানি। জানি না বইন্নায় কী অইবে!’

default-image

বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের লবণগোলা এলাকার বাসিন্দা দুলাল মৃধা বলেন, ‘আমাদের এলাকার বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয় পানি প্রবেশ করেছে। এতে অন্তত পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্লাবিত হয়েছে হাজারো পরিবার।’

default-image

সদরের পোটকাখালী এলাকার বাসিন্দা রাসেল বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে পানির তোড়ে পুরোনো বাঁধের চারটি স্থানে ভেঙে আমাদের গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে হয়েছে। এই একটি গ্রামে চার শতাধিক পরিবার রয়েছে। আজ এই গ্রামের একটি পরিবারেও দুপুরের খাবার রান্না হবে না। প্রতিটি পরিবারের রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে আছে।’ সদর উপজেলার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা দুলাল বলেন, ‘পায়রার নদের জোয়ারের চাপে মঙ্গলবার সকালে আমাদের এলাকার অন্তত ৩০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। সেই থেকে দিনে দুবার এ এলাকার ১২ গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন