default-image

সর্বাত্মক লকডাউনের তৃতীয় দিন আজ শুক্রবার। সকাল ৮টায় বরিশাল নগরের পথঘাট ফাঁকা। কেবল সড়কের মোড়ে মাড়ে পুলিশের সদস্য ছাড়া তেমন লোকজনের চলাচল নেই। দু-একটি রিকশা, তিন চাকার যান ও মোটরসাইকেল ছাড়া আর কোনো যানবাহনও নেই।

নগরের গুরুত্বপূর্ণ বটতলা মোড়ে পুলিশের সার্জেন্ট সিদ্দিকুর রহমান বিভিন্ন যান থামিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছেন বা যাত্রীদের গন্তব্য জানছেন। যাত্রীর অজুহাতে সন্তুষ্ট হলে যান ছেড়ে দিচ্ছেন, নয়তো আটকে দিচ্ছেন। এই তল্লাশিচৌকি পার হয়ে নগরের বটতলা বাজারে গিয়ে দেখা গেল সুনসান নীরবতা। বাজারে সবজি, ডিম, মাছ, মুরগি সবই আছে। কিন্তু ক্রেতা নেই।

আবদুল মজিদ নামের একজন সবজি বিক্রেতা বললেন, ‘কী আর করমু, বাজারে তেমন লোকজন আয় না। মোগো অবস্থা খুব খারাপ।’

মুরগি বিক্রেতা নাসিরউদ্দীন গালে হাত দিয়ে ঝিমোচ্ছেন। তিনি বললেন, ‘ব্যবসা শ্যাষ। আয়-রোজগার না থাকলে মানসে কিনবে কী দিয়া। লকডাউন শুরুর পর খুব খারাপ অবস্থা।’

বটতলা বাজার থেকে বাংলাবাজারে গিয়ে দেখা গেল, এমনই অবস্থা। ক্রেতা নেই। শুক্রবার নগরের এসব বাজারে ক্রেতায় ঠাঁসা থাকে। তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। কিন্তু লকডাউনের কারণে এখন তেমন ক্রেতা সমাগম নেই।

বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলাবাজারের ডিম ব্যবসায়ী মাসুম মিয়া বললেন, ‘মানুষ এখন বাজারে আসতে চায় না। যাঁরাও আসেন, তাঁরা আগের মতো কেনাকাটা করেন না। সবার পকেটের অবস্থাই তো খারাপ।’ বাংলাবাজার, চৌমাথা বাজার, বটতলা ঘুরে মনে হলো সর্বাত্মক লকডাউন যথাযথভাবেই চলছে।

এসব বাজার ঘুরে নগরের ব্যস্ততম সদর রোড, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, চকবাজার ছাড়িয়ে পাইকারি কাঁচা বাজার পোর্ট রোডে সেই ধারণা যেন ভুল প্রমাণিত হলো। এখানে সম্পূর্ণই ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। লোকজন গায়ে গা-ঘেঁষে যে যার মতো বাজার করছেন। তাঁদের কেউ কেউ মাস্ক পরা। আবার কেউ মাস্ক খুলে পকেটে পুরে বাজারে ঢুকেছেন, আবার কাউকে দেখা গেল থুতনিতে নামিয়ে রেখেছেন। সামনের সড়কে পা ফেলা দায়। রিকশা, তিন চাকার যান, ট্রাক আর ফুটপাতে সবজির বাজার এবং ক্রেতা। পুরো এলাকায় লোকে লোকারণ্য। অথচ স্বাস্থ্যবিধি বলে কিছুই দেখা গেল না এখানে।
ভিড় ঠেলে মূল বাজারের শেডে ঢুকে দেখা গেল ক্রেতা-পাইকারে ঠাসা। শোরগোলে কিছুই শোনা যায় না, কেবল পাইকারি মাছের দাম হাঁকানোর শব্দ ছাড়া।

মাস্ক মুখের নিচে নামিয়ে একজন ক্রেতা মাছের দাম করছিলেন। মাস্ক এভাবে পরায় লাভ কী? জানতে চাইলে মুচকি হেসে বললেন, ‘এত ভিড়, মাস্ক নাকে তুললে দম আটকে আসে, তাই নামিয়ে রেখেছি।’

স্বাস্থ্যবিধির জলাঞ্জলির ব্যাপারে জানতে চাইলে পাইকারি মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে প্রতিদিন এত লোক আসে কে কাকে নিয়ন্ত্রণ করবে বলেন। আমরা তো সব সময়ই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য পরামর্শ দিই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন