default-image

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া এই পাঁচজনের মধ্যে একজন করোনা ‘পজিটিভ’ ছিলেন। বাকি চারজন করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন।

এ নিয়ে এই হাসপাতালে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৪৩২। আর করোনা ‘পজিটিভ’ হিসেবে মারা গেছেন ১৭৬ জন। হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৮৬ জন। এর মধ্যে ৫৫ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি। বাকি ৩৩ জন নমুনা পরীক্ষায় করোনা ‘পজিটিভ’ হয়েছেন। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ২৪ ঘণ্টায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে ৩৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। নতুন ৩৯ জন নিয়ে এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৫৬২ জনের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে বরিশাল জেলায় ৬ হাজার ৬১৮ জন। এ ছাড়া পটুয়াখালীতে ২ হাজার ১২৩ জন, ভোলায় ১ হাজার ৭৬১, পিরোজপুরে ১ হাজার ৫৭৯, বরগুনায় ১ হাজার ২১৩ এবং ঝালকাঠিতে ১ হাজার ২৬৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বিভাগে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৮৪৯ জন।

বিভাগে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত ব্যক্তির সংখ্যা ২৬২। এর মধ্যে বরিশালে ১০৯ জন, পটুয়াখালীতে ৫০, ভোলায় ২৪, পিরোজপুরে ৩১, বরগুনায় ২৪ ও ঝালকাঠিতে ২৪ জন রয়েছেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, বরিশালে গত কয়েক দিন করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা কমেছে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এ বিভাগে করোনা সংক্রমণ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। ১৩ থেকে ১৯ মার্চ—এই সাত দিনে বিভাগের ছয় জেলায় সংক্রমিত হন ৭৭ জন। কিন্তু ২০ থেকে ২৬ মার্চ পরের সাত দিনে সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ২২৮, অর্থাৎ প্রায় তিন গুণ। ১৬ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল—এই ১৯ দিনে বিভাগে আক্রান্ত হন ১ হাজার ৯৯১ জন। আর এপ্রিলের ১৫ দিনে সংক্রমিত হন ১ হাজার ৭৭৯ জন। সংক্রমণের এই গতি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এই সময়ে সংক্রমণের হার ২৫ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর তা নিম্নমুখী হতে শুরু করে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, সংক্রমণের গতি কয়েক দিন ধরেই নিম্নমুখী। এর পেছনে সর্বাত্মক লকডাউনের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে সংক্রমণের নিম্নমুখী অবস্থা ধরে রাখতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন