সংক্রমণের গতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে পটুয়াখালী জেলায়, ১৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জনের; এরপর বরিশাল জেলায় ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ভোলায় ২৪ জনে ৭ জন, বরগুনায় ১১ জনে ৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

এর আগে গত শুক্রবার সকাল থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ৩৬ দশমিক ২৬।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারা দেশের মতো বরিশালে গত এপ্রিল ও মে মাসে করোনার সংক্রমণ তলানিতে নামলেও জুনের শেষে এসে তা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১০ দিনে বিভাগে ৫৭৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আজ বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাতগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত ছিল। ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের বেশির ভাগই মাস্ক পরেননি। প্রশাসনেরও নজরদারি দেখা যায়নি।

default-image

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমে অবনতি হচ্ছে। এখন ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশি দেখা দিচ্ছে। কিন্তু অনেকেই করোনা পরীক্ষার বিষয়ে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। এটা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

মাস্ক পরার ক্ষেত্রে উদাসীনতাকে আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ঈদ উপলক্ষে লঞ্চে-বাসে লাখ লাখ লোক গ্রামে ফিরেছেন। পশুর হাটগুলোতে ব্যাপক ভিড় ছিল। এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি খুব একটা। এভাবে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করা হলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে। এ জন্য সবাইকে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার ওপর জোর দিতে হবে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১ থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত বিভাগে শনাক্তের হার ছিল শূন্য। ১৪ জুন একজনের করোনা শনাক্ত হয়। এরপর তা ক্রমেই বাড়তে থাকে। ১ জুলাই তা একলাফে ৫৯ দশমিক ১৭ শতাংশে পৌঁছায়।

গত জানুয়ারিতে বিভাগের শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩১৭। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ৩ হাজার ৮৮৪ জন। মার্চে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১৪৪ জনের। তবে এপ্রিলে মাত্র ছয়জন এবং মে মাসে তিনজনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। এ ছাড়া জুনে বিভাগে ১৮৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। তবে এই সময়ে কোনো মৃত্যু ছিল না।

বিভাগে এ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫৩ হাজার ৪৪৭ জনের। মোট মারা গেছেন ৬৯০ জন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন