বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার বর্ধিত মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও খুচরা ও পাইকারি বাজারে সয়াবিনের সরবরাহ নেই। আগে যাঁদের মজুত ছিল, তাঁরাই এখন বাজারে বিক্রি করছেন। তবে তা খুবই অপ্রতুল। এই তেলও আবার বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৮ টাকা বেশি দামে।

খোলা সয়াবিনের লিটারপ্রতি দাম ১৮০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও কোথাও কোথাও তা পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। তবে বেশির ভাগ দোকানেই খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন নেই।

নগরের আমিরকুটির এলাকার বাসিন্দা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাসির উদ্দীন আজ শনিবার সকালে বলেন, বাজারে কোথাও সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দু–একটি দোকানে মিললেও দাম শুনে আর কেনার সাহস হয় না। অধিকাংশ দোকানে এখন রাইস ব্র্যান তেল বিক্রি হয়। বাধ্য হয়ে এখন তা কিনতে হচ্ছে। তবে দাম লিটারপ্রতি ১৯০ টাকার ওপর।

নগরের বড় বাজার রোড, বাংলা বাজার, চৌমাথা বাজার, নতুন বাজার ও আগরপুর রোডের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সয়াবিন তেল রাখার তাক ফাঁকা। দু–একটি দোকানে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন বোতল তেল দেখা গেলেও দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি।

বাজার রোডের একজন পাইকারি মুদিদোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দোকানে কোনো সয়াবিন তেল নেই। কোনো সয়াবিন কোম্পানি থেকেই তেল দিচ্ছে না। বলে সাপ্লাই নেই। আমরা কীভাবে বিক্রি করব? যতক্ষণ ছিল, ততক্ষণ বিক্রি করেছি।’

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সঙ্গে চা ও পোলাওয়ের চাল কিনতে হবে, এমন বাধ্যতামূলক নিয়ম করায় ক্রেতারা সয়াবিন তেল কিনতে এসে বিপাকে পড়েন। এতে ক্রেতাদের সঙ্গে দোকানদারদের প্রতিদিনই ঝগড়া-বিবাদ হতো। আর এখন তো সরবরাহই নেই। যাঁদের কাছে আগে থেকে মজুত আছে, তাঁরাও বোতল খুলে খোলা সয়াবিন হিসেবে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে লিটারপ্রতি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ টাকা বেশি মূল্য নেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, কিছু ব্যবসায়ীর কাছে সয়াবিন তেলের মজুত আছে। নতুন তেল বাজারে সরবরাহ শুরু হলে তাঁরা বাড়তি দামে সেই তেল বিক্রি করবেন। আবার অনেক ব্যবসায়ী বোতল ও প্যাকেটজাত তেল খুলে খোলা তেল হিসেবে বিক্রি করছেন। খোলা তেলে বেশি লাভ পাচ্ছেন বলে এমনটা করছেন।

বটতলা বাজারের ব্যবসায়ী মাহতাব হোসেন বলেন, ‘আমরা মাসখানেক ধরেই সয়াবিন পাচ্ছি না। খোলা তেল যা আছে, তা–ও অপ্রতুল। প্রতি লিটার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। কেউ কেউ ২১০ টাকাও বিক্রি করছেন।’ তিনি বলেন, বাজারে সয়াবিনের ঘাটতি থাকলেও রাইস ব্র্যানের ঘাটতি নেই। তাই এখন ক্রেতাদের কাছে বিকল্প হিসেবে রাইস ব্র্যান তেল বিক্রি করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে সয়াবিনের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ কুমার দত্ত বলেন, ‘সয়াবিন তেলের বাজারে এখন একধরনের নৈরাজ্য চলছে। এ ক্ষেত্রে সরকার মূল্য বাড়িয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। কিন্তু বাজারে সয়াবিনের চাহিদা ও জোগান আছে কি না, সে ব্যাপারে উদ্যোগ দেখছি না। তাই বাজার পরিস্থিতি বেসামাল। এখন সরকারের উচিত সঠিক চাহিদা নিরূপণ করে জোগান নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগী হওয়া।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন